ভাইরাল খবর
শুধু ভোটের সময় দেখা যায়! শ্রীরূপার বিরুদ্ধে পোস্টার-আন্দোলন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের নিখোঁজের পোস্টার। তবে এবার কোনও সাধারণ ব্যক্তি নন, অভিযোগের তীরে রাজ্যের এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি— মালদার ইংরেজবাজারের বিধায়িকা শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর নামে। শুক্রবার সকালে শহরের মহেশমাটি এলাকায় দেখা যায় এমন একাধিক পোস্টার, যেখানে সাফ লেখা— ‘নিখোঁজ বিধায়িকা, খোঁজ পেলে যোগাযোগ করুন স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়ে’। পোস্টারের নিচে স্বাক্ষর— “ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীবৃন্দ”।
এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী বিজেপির টিকিটে জয়ী হলেও, তারপর থেকে তাঁকে এলাকায় প্রায় দেখাই যায়নি। একমাত্র নির্বাচনের সময় বা বিশেষ রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তাঁর দেখা মেলে। বাকি সময়ে তিনি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলেই অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমরা তাঁকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছি, কিন্তু তারপর থেকে খোঁজ নেই। কোনও উন্নয়নের কাজ, অভাব-অভিযোগের কথা বলার জায়গা নেই। উনি শুধু ভোটের সময়ই আসেন। এখন তো পোস্টার লাগানো ছাড়া উপায় কী!”
যদিও এই পোস্টার কে বা কারা দিয়েছে তা নিয়ে বিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্রে খবর— দলের অন্দরেই বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল শ্রীরূপার ভূমিকা নিয়ে। বিজেপির একাংশ মনে করছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে আগামী লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে এর খেসারত দিতে হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ একদিকে চাকরি, অন্যদিকে ওয়াকফ আইনের বিরোধিতা! প্রতিবাদে নাজেহাল কলকাতাবাসী
এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসও চুপ থাকেনি। জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু কটাক্ষ করে বলেন,”শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিজেপির কর্মীরাও নিজেদের বিধায়িকার নাগাল পান না। লোকসভা ভোটের কয়েকটা দিন বাদ দিলে গত চার বছরে উনি কার্যত অদৃশ্য। এটা যে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব, সেটা স্পষ্ট।” তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা বিজেপির নেতাদের জনবিচ্ছিন্ন অবস্থারই প্রমাণ। রাজ্যের মানুষ বুঝে গিয়েছে, এদের দিয়ে রাজনীতি চলে না।”
একজন নির্বাচিত বিধায়িকা সম্পর্কে এমন অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর। এলাকায় তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে পোস্টার লাগানোর ঘটনা নজিরবিহীন না হলেও, তা যদি সত্যিই দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়, তবে তা রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যেন শুধু ভোটের সময় নয়, সারা বছরই পাশে থাকেন।
