দুর্ঘটনা
বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের হাতেই মুর্শিদাবাদের হিংসা! কেন্দ্রীয় রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ আইন ঘিরে অশান্তির আবহেই ভয়াবহ হিংসায় জর্জরিত মুর্শিদাবাদ। আর সেই হিংসার নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা—প্রাথমিক তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কেন্দ্র এই রিপোর্ট প্রকাশ না করলেও, সূত্র মারফত পাওয়া তথ্যে এমনটাই উঠে এসেছে।
সূত্র বলছে, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা যথেষ্ট সন্দেহজনক ছিল বলেই মনে করছে কেন্দ্র। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে রিপোর্টে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হিংসার বলি হয়েছেন তিনজন। একাধিক জায়গায় চলেছে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি পোড়ানো—সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে বাধ্য হয় প্রশাসন। ইতিমধ্যে বিএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায়।
আরও পড়ুনঃ ওয়াকফ আইনের একগুচ্ছ মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে!
হিংসার ভয়াল রূপ দেখে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু পরিবার। নারী-শিশুদের বড় অংশ আশ্রয় নিয়েছেন মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগরের বিভিন্ন সরকারি স্কুলে। তৃণমূলের দাবি, বহিরাগত দুষ্কৃতীদের মদতেই মুর্শিদাবাদে এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফরাক্কার চঅভিযোগ করেন, “বাইরে থেকে লোকজন না ঢুকলে এই ধরনের কাণ্ড ঘটত না।” তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “বিএসএফের একাংশের সাহায্যে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়েছে, অশান্তি ছড়িয়েছে এবং পরে আবার তাদের সরিয়েও ফেলা হয়েছে।”
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তের সূত্রে প্রকাশ, মুর্শিদাবাদে ঢোকা এই দুষ্কৃতীদের অনেকে বাংলাদেশি। প্রশ্ন উঠছে, সীমান্তে কড়া নজরদারির পরও কীভাবে এই অনুপ্রবেশ সম্ভব হল? বিএসএফ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। প্রশ্ন জাগছে আরও—কেন আগাম কোনও সতর্কতা গ্রহণ করতে পারল না রাজ্য পুলিশ বা গোয়েন্দা দফতর? হিংসার আঁচ যখনই পাওয়া গিয়েছিল, তখনই কেন তা দমন করা গেল না?
রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক বিশ্লেষক—সকলেই বলছেন, শুধুমাত্র আইন নয়, এই ঘটনার রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগের সঞ্চার হয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে।
