কলকাতা
ওয়াকফ আইন বিতর্কের মাঝে হিংসার বিরোধিতা, শান্তির বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ আইন নিয়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় উত্তেজনার আবহ। এর মধ্যেই শান্তির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে নবনির্মিত স্কাইওয়াক উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “ধর্ম নিয়ে অধর্মের খেলা খেলতে নেই। কেউ কেউ প্ররোচনা দেবে, পা দেবেন না। মাথা ঠান্ডা রাখুন।”
বহু প্রতীক্ষিত স্কাইওয়াকের উদ্বোধনঃ
২০১৮ সালের নভেম্বরে দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক উদ্বোধনের সময় কালীঘাটে অনুরূপ একটি প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষমেশ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় কালীঘাট স্কাইওয়াকের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই স্কাইওয়াক যেমন কালীঘাট মন্দিরে আসা মানুষের সুবিধা বাড়াবে, তেমনই আমাদের সরকারের উন্নয়ন ভাবনার প্রতিফলন। আমরা সব ধর্মীয় স্থানের উন্নয়নে বিশ্বাসী। তারাপীঠ হোক বা ফুরফুরা শরিফ—সবারই উন্নয়ন করেছি আমরা।”
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা! বিজেপি সভাপতি সুকান্তর বিরুদ্ধে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভিযোগ
ওয়াকফ আইন ঘিরে অশান্তি, মমতার সতর্কবার্তাঃ
গত কয়েকদিন ধরে ওয়াকফ আইন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকা। সামশেরগঞ্জ, সুতি ও ধুলিয়ানে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, প্রাণ গিয়েছে অন্তত তিনজনের। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের গাড়ি, দোকান ও বাড়িঘর। বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত শুক্রবার রাত থেকে মোতায়েন করা হয়েছে বিএসএফ। পাশাপাশি, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে শনিবার রাত থেকে নামানো হয়েছে আধাসেনাও।
এই অশান্ত পটভূমিতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সম্প্রীতির বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “বাংলা সম্প্রীতির মাটি। কেউ যদি আঘাত পায়, সে যে ধর্মেরই হোক, আমরা পাশে দাঁড়াই। কিন্তু আন্দোলনের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। আন্দোলনের অধিকার সকলের আছে, তবে শান্তিপূর্ণভাবে তা করতে হবে।”
রাজনৈতিক বার্তা, বিজেপিকে বিঁধলেন মমতাঃ
নাম না করে বিজেপির বিরুদ্ধেই প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, “কেউ কেউ মানুষকে ভুল বোঝাতে চাইছে। অশান্তি ছড়াতে চাইছে। কিন্তু আমি বলব—আপনারা মাথা ঠান্ডা রাখুন, শান্ত থাকুন। সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেবেন না।”
রাজ্য রাজনীতিতে যখন ওয়াকফ আইন নিয়ে উত্তেজনা চরমে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ধর্মের বিভাজনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একতার সুরেই আস্থা রাখছে শাসকদল।
