ভাইরাল খবর
“দিদি ওয়াকফ মানবেন না”— আন্দোলনে নামার বার্তা অনুব্রতের, প্রশাসনকে শান্তির বার্তা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ আইন ঘিরে রাজ্যের নানা প্রান্তে যখন উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তখন প্রকাশ্যে মুখ খুললেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সোমবার নলহাটিতে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের নেতাকর্মীদের নিয়ে এক সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “রাজ্যে যখন মুখ্যমন্ত্রীই ওয়াকফ বিল মানবেন না বলে দিয়েছেন, তখন অশান্তির কোনো মানে হয় না। তবে প্রতিবাদ চলবে, তবে সেটা শান্তিপূর্ণ হতে হবে।”
এই বার্তা স্পষ্ট করে তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন—ওয়াকফ বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন, মিছিল ও সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, নলহাটি বিধায়ক রাজেন্দ্র সিং, মুরারইয়ের মোশারফ হোসেন, ময়ুরেশ্বরের অভিজিৎ রায় এবং হাসনের বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়। এদিনের বৈঠকে বিভিন্ন সাংগঠনিক দিক নির্দেশনার পাশাপাশি বিশেষ বার্তা দেন সম্প্রীতি বজায় রাখার।
অনুব্রত বলেন, “ওয়াকফ বিরোধী সব মিছিলে সবাই থাকবেন। রাজু, পিন্টু—সবাই থাকবি। তবে কোনও হানাহানি, রক্তারক্তি যেন না হয়।” রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের কর্মীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশ দেন তিনি—বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে চলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত চার মাস ধরে অশোকবাবুকে কার্যত উপেক্ষা করছিলেন ওই এলাকার ব্লক নেতৃত্ব। তারাপীঠ মন্দিরেও তাঁকে না ডাকার অভিযোগ উঠেছে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, তারাপীঠ সেবাইত সংগঠনের সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রীর মৃত্যু এবং সেই মৃত্যুতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃওয়াকফ আইন বিতর্কের মাঝে হিংসার বিরোধিতা, শান্তির বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এই বিতর্কের মাঝেও দলের স্বার্থে অশোকবাবুকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কড়া বার্তা দেন অনুব্রত। একইসঙ্গে যেসব অঞ্চলে সাংগঠনিক পদে কেউ নেই, সেখানে অন্তত পাঁচ জনের ছোট ছোট কমিটি গঠনের পরামর্শও দেন তিনি। বৈঠকে তিনি জানান, “সাংগঠনিকভাবে শক্তপোক্ত হলে জেলার ১১টি আসনেই তৃণমূল জয়ী হবে।”
প্রসঙ্গত, ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনের আবহে মুর্শিদাবাদ লাগোয়া নলহাটিতে ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেষ্ট পুলিশ-প্রশাসন। এই অবস্থায় অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তবে একাধিক ইস্যুতে সরব হলেও অনুব্রত এদিনও বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিজেপি-বিরোধী বক্তব্যে অনুব্রতের নীরবতা জল্পনা বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
