ফিরলে আবার মারবে, ভিটেছাড়া মহিলাদের দাবি—বিএসএফ ক্যাম্প বসানোর আরজি
Connect with us

ভাইরাল খবর

ফিরলে আবার মারবে, ভিটেছাড়া মহিলাদের দাবি—বিএসএফ ক্যাম্প বসানোর আরজি

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় ছড়িয়ে পড়া হিংসায় ঘরছাড়া বহু পরিবার। দাউদাউ করে জ্বলেছে বাড়িঘর, দোকানপাট। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের উপর চলে হামলা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে নামানো হয় কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী। বেশ কিছু গ্রাম কার্যত ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে প্রাণ হাতে করে পালিয়ে মালদহের বৈষ্ণবনগরের বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক পরিবার।

এদিন, আশ্রয় শিবিরে উপস্থিত হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। পার লালপুর হাই স্কুল আশ্রিতদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের হাতে তুলে দেন আর্থিক সাহায্য। তবে সাহায্যের চেয়েও বেশি প্রয়োজন ছিল সহানুভূতির— আর সুকান্তকে সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘরহারা মহিলারা।

আরও পড়ুনঃ মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি কেমন? সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন জাভেদ শামিম

ঘরছাড়া কল্পনা মণ্ডল কান্নাজড়ানো গলায় বলেন, “বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল ওরা। আমি দৌড়তে পারি না, তাও ছুটে পালিয়েছি। পেছন থেকে শুনছি— আগুন জ্বলছে, ধরে এনে ফেলে দে। এখন জানি না আর কখনও বাড়ি ফিরতে পারব কি না।”

Advertisement
ads

আশ্রিত পরিবারের অনেকেরই অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা শুধু ঘর জ্বালিয়ে দেয়নি, তাঁদের সম্মানহানির চেষ্টাও করেছে। সুকান্ত মজুমদার আশ্বাস দেন, “এই ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা রাজ্যের প্রতিটি জেলায় রাস্তায় নামব। একদিকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করব, অন্যদিকে আইনি পথে লড়াই জারি থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। কোর্টে আমরা আবেদন করব, যাতে রাজ্য সরকার বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেয়। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজিকেও বিস্তারিত জানাব।”

পালিয়ে আসা পরিবারগুলির দাবি, ফিরতে চাইলেও ভয় কাটছে না। কেউ কেউ বলেন, “আমরা ফিরলে আবার মারবে। অন্তত একটা বিএসএফ ক্যাম্প বসুক ওখানে।” প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত পূর্ণ নিশ্চয়তা মেলেনি।

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সুতি ও ধুলিয়ান এলাকা ওয়াকফ সম্পত্তি ইস্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক চাপানউতোর, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মানুষের নিরাপত্তার অভাব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এই ভয়াবহ সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন এবং রাজনীতিকদের কী ভূমিকা থাকে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement