ভাইরাল খবর
প্রথম দফা ভোটের আগেই বড় ধাক্কা শাসক শিবিরে! বঙ্গের সমস্ত নির্বাচনি কাজ বন্ধ করার ঘোষণা করল আইপ্যাক
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) রণদামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা (Legal obligations) এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অতি-সক্রিয়তার কারণ দেখিয়ে এ রাজ্যে তাদের সমস্ত নির্বাচনি কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিল পরামর্শদাতা সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা আইপ্যাক (I-PAC)।
সূত্রের খবর, শনিবার মধ্যরাতে সংস্থার কর্মীদের কাছে একটি ইমেইল (Email) পাঠিয়ে জানানো হয়েছে যে, আপাতত আগামী ২০ দিন তাঁদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। আগামী ১১ মে-র পর পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ (Next steps) নেওয়া হবে। ইডির সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পড়েই এই ‘সাময়িক বিরতি’র সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলার (Coal scam case) তদন্তে আইপ্যাকের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্ডেলকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এর আগে সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাসভবন ও সল্টলেক অফিসেও দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তৃণমূলের প্রচারের অভিমুখ ঠিক করা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া (Social media) সামলানো এবং জনমত সমীক্ষা (Opinion poll)— সবক্ষেত্রেই আইপ্যাকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন এই সংস্থার কর্মীরা। নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে গ্রাউন্ড লেভেলের (Ground level) কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে ব্যাপক উদ্বেগ (Anxiety) তৈরি হয়েছে।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ (Political vendetta) বলে তোপ দেগেছেন। ইডি যাতে দলের গোপন নির্বাচনি নথি হাতিয়ে নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং নথিপত্র উদ্ধারে সরব হয়েছিলেন এবং বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিচারাধীন। এখন প্রশ্ন হলো, আইপ্যাকের এই অনুপস্থিতিতে তৃণমূলের ভোট-মেশিনারি কতটা সক্রিয় থাকতে পারে?


