লস্কর-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি নেতা বাংলাদেশে: সীমান্ত এলাকায় ভারত-বিরোধী কুরবানি ডাক ও কাশ্মীর হুমকি
Connect with us

দেশের খবর

লস্কর-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি নেতা বাংলাদেশে: সীমান্ত এলাকায় ভারত-বিরোধী কুরবানি ডাক ও কাশ্মীর হুমকি

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে আবারো ভারত-বিরোধী (anti-India) তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সাঁট গেঁথে (collaborate) বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindur) হওয়ার পর পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI), মৌলবাদী দল (fundamentalist groups) এবং জঙ্গি (militant) গোষ্ঠী বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে নজর দিচ্ছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দ্বিতীয় শীর্ষ সেনাকর্তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। সঙ্গে ছিলেন লস্কর-ই-তোইবার (LeT) প্রধান হাফিজ সইদের (Hafiz Saeed) ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বাংলাদেশের কিছু মৌলবাদী (radical) ও কট্টর ইসলামি (hardline Islamic) সংগঠন এই নেতাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে। সবকিছুই ঘটেছে অন্তর্বর্তী (interim) সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের পুলিশের চোখের সামনেই।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি (intelligence agencies) সতর্ক হয়ে গেছে কারণ এই লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তে একাধিক কার্যক্রম (activities) চালিয়েছে। ইবতিসাম ইলাহি জাহির (Ibtisam Ilahi Zahir) পাকিস্তানের মারকাজি জমিয়ত আহল-ই-হাদিয়াতের (Markazi Jamiat Ahle-Hadith) জেনারেল সেক্রেটারি (General Secretary) এবং হাফিজের দীর্ঘদিনের সহযোগী। জাহির ঢাকায় এসেছে ২৫ অক্টোবর।

ঢাকায় আসার পর থেকে সে উত্তেজনাপ্রবণ (provocative) সীমান্ত জেলা (border districts) ঘুরে উসকানিমূলক (inciting) ভাষণ দিয়েছে এবং স্থানীয় মৌলবাদী (fundamentalist) গোষ্ঠীর সঙ্গে একাধিক আলোচনাসভা করেছে। গত দুদিনে রাজশাহী (Rajshahi) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ (Chapainawabganj)-এ মিটিং করেছে। এ সপ্তাহে রংপুর (Rangpur)-এ যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

Advertisement
ads

মহম্মদ ইউনুসের সময় জাহির আগেও ফেব্রুয়ারিতে প্রায় এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে এসেছিল। এই সফরের অংশ হিসেবে সে সালাফি (Salafi) কনফারেন্সে যোগ দেবে। রাজশাহীতে কট্টর ইসলামি (hardline Islamic) নেতাদের বিশাল মিটিং ৬-৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। অনুমান করা হচ্ছে, জাহির এই সফরে প্রায় ১২ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবে।

জাহির বাংলাদেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভারত-বিরোধী (anti-India) নতুন কার্যক্রমের পরিকল্পনা (plans) সক্রিয় হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সহায়তায় ভারতকে টার্গেট (target) করতে চাচ্ছে। হাফিজ সইদের এই নির্দেশে জাহিরকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

২৫ অক্টোবর রাতে রাজশাহীর শাহ মাকদুম বিমানবন্দর (Shah Makdum Airport) পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান আবদুর রহিম বিন আবদুর রাজ্জাক, আল জামিয়া আস-সালিফা (Al Jamia As-Salifa) সদস্য। এরপর জাহির চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মসজিদের (mosques) ইমামদের সঙ্গে আলোচনা করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সভায় জাহির উসকানিমূলক ভাষণ দিয়ে বলেন, “ইসলামের জন্য সবাই কুরবানি (sacrifice) দিতে প্রস্তুত থাকো। নিজের সন্তানকেও কুরবানি দিতে প্রস্তুত হও। ধর্মনিরপেক্ষ (secular) ও উদারপন্থী (liberal) শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত সকল মুসলিমকে এক হতে হবে। কাশ্মীর (Kashmir) নিয়ে বলতে গেলে, কাশ্মীরের স্বাধীনতা এখনো বঞ্চিত। ভারতের কাশ্মীরে দমনমূলক (repressive) আইন চলছে এবং ইসলাম বিরোধী (anti-Islamic) কাজ হচ্ছে। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য পাকিস্তান সরকারকে আওয়াজ তোলতে হবে। আল্লাহর দোয়ায় সেই দিন আর দূরে নয়, যখন কাশ্মীর পাকিস্তানের হয়ে যাবে।”

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement