হামলা
জম্মু-কাশ্মীরের হামলার পাল্টা জবাবের ছক, বৈঠকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ইঙ্গিত
ডিজিটাল ডেস্কঃ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর গোটা দেশ জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত ২৬ জনের মধ্যে ছিলেন নিরীহ পর্যটক, তাঁদের রক্তাক্ত দেহ দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সারা ভারত। আর এই ঘটনার জেরেই এখন কার্যত সরগরম দিল্লির প্রতিরক্ষা মহল।
বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বৈঠকে বসেন দেশের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে। সূত্রের খবর, বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল— জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া। হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF), যার মদত রয়েছে পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ লস্কর-ই-তৈবার বলে গোয়েন্দাদের দাবি।
আরও পড়ুনঃ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় আটকে পরেছেন রায়গঞ্জের এক পরিবার
সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে, সীমান্তে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) বরাবর সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। উপত্যকার বিভিন্ন অংশে সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনী ‘চিরুনি তল্লাশি’ চালাচ্ছে।
এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ভারতীয় নৌসেনার এক আধিকারিকও, যা পুরো ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শ্রীনগরে গিয়ে নিহতদের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “ভারত কখনও সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না। এই ঘৃণ্য হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।”
এই অবস্থায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে হওয়া বৈঠকে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষত, ২০১৬ সালের উরি হামলার পরে ভারতের পক্ষ থেকে যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছিল, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কি এবারও হতে চলেছে?
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে যুদ্ধের পরিবেশ এখনই তৈরি না হলেও, সরকারের প্রতিক্রিয়া হবে “চোখে চোখ রেখে”— এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে গোটা দেশের কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা মহল।
