দেশ
কাশ্মীরের বুকে নৃশংস হামলা, ‘বন্ধু’ দেশের সমর্থনে দৃঢ় বার্তা ট্রাম্পের
ডিজিটাল ডেস্কঃ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যুতে শোকাহত ভারত। এ হামলার রেশ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরেও। বিশ্বজুড়ে ভারতীয় বন্ধুদেশগুলি তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে এই কাপুরুষোচিত হামলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল, দুই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র দেশই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে—এই সন্ত্রাসবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে ভারত যা পদক্ষেপ নেবে, তাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
আরও পড়ুনঃ জম্মু-কাশ্মীরের হামলার পাল্টা জবাবের ছক, বৈঠকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। আমেরিকা সবসময় ভারতের পাশে আছে। মোদিজি এবং ভারতের সাহসী নাগরিকদের জন্য আমাদের হৃদয়ভরা সমবেদনা ও সমর্থন রইল।” বর্তমানে ভারত সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পহেলগাঁওর এই নির্মম হত্যালীলার নিন্দা করে জানান, এই ঘটনায় আমেরিকা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ভারতের পাশে থাকবে।
Usha and I extend our condolences to the victims of the devastating terrorist attack in Pahalgam, India. Over the past few days, we have been overcome with the beauty of this country and its people. Our thoughts and prayers are with them as they mourn this horrific attack. https://t.co/cUAyMXje5A
— JD Vance (@JDVance) April 22, 2025
হামলায় ইজরায়েলের এক নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই ইজরায়েলের তরফে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আসে। নয়াদিল্লিতে ইজরায়েলি দূতাবাস জানায়, “এই নৃশংস হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতকে আমরা সবরকম সাহায্য করব।” অতীতে ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ইতিহাস থাকায় ইজরায়েলের এই বার্তাকে কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
Sad and appalled following the terrorist attack in J&K which took the lives of innocent civilians.
Our thoughts are with the victims and their families and our support is for the security forces in their struggle against terror. https://t.co/goSZDcAc5D— 🇮🇱 Reuven Azar (@ReuvenAzar) April 22, 2025
এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর নাম উঠে এসেছে। ভারত ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক স্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। এমন সময় আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো শক্তিধর দেশের পাশে থাকার বার্তা ভারতের সন্ত্রাসদমন নীতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালো করবে বলেই মত বিশ্লেষকদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সেনার পোশাকে এসেছিল এবং ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে গুলি চালিয়েছে। এখনও বহু পর্যটক আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই হামলাকে অনেকেই পুলওয়ামার পুনরাবৃত্তি বলেই দেখছেন। ফলে দেশের অভ্যন্তর যেমন ক্ষোভে ফুঁসছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের প্রতি সহানুভূতির ঢল।
