ডিজিটাল ডেস্ক: পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় সেনার তরফে পরিচালিত অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ সামিল ছিলেন দেশের দুই সাহসী নারী সেনা আধিকারিক— কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Col. Sophia Qureshi) ও বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং (Wg. Cdr. Byomika Singh)। অপারেশনের সাফল্যের পরে সেনার এই দুই মুখ ভারতের নারী শক্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এই ঐতিহাসিক মুহূর্তেই এক বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম বিতর্কে জড়ান মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী বিজয় শাহ (Vijay Shah)।
সোফিয়া কুরেশির ধর্মীয় পরিচয়কে কটাক্ষ করে বিজয় শাহ একটি বক্তব্যে বলেন, “ওরা (জঙ্গিরা) আমাদের হিন্দু ভাইদের পোশাক খুলে পরিচয় জেনে হত্যা করেছে। তাই মোদিজি তাঁদের সম্প্রদায়ের বোনকে ওদের বাড়িতে পাঠিয়ে ওদের মতো করে শাস্তি দিয়েছেন।” যদিও তিনি সরাসরি কর্নেল কুরেশির নাম নেননি, তবে তাঁর মন্তব্য যে তাঁকেই উদ্দেশ্য করে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলে।
এই বক্তব্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয় প্রবল নিন্দা। সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী এক নারী সেনা কর্মকর্তাকে অপমান করার অভিযোগে উঠেছে প্রবল প্রতিবাদ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) অবিলম্বে মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার দাবি তোলেন। এমনকি বিজেপির মধ্যপ্রদেশ শাখাও বিজয় শাহের মন্তব্যকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করে দলীয়ভাবে তাঁকে সতর্ক করে।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী, উন্নয়ন প্রকল্পে জোর ও জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তা
তবে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিজয় শাহ দাবি করেন, “আমার মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি কর্নেল কুরেশির কাছে ১০ বার ক্ষমা চাইতেও রাজি আছি।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। আদালত জানায়, বিজয় শাহের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতেই হবে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হবে ফৌজদারি মামলা, যা নিয়ে তদন্ত শুরু করবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি প্রথম মুসলিম মহিলা সেনা অফিসার যিনি রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দেশের নিরাপত্তা ও গৌরবকে সম্মানিত করা এই সাহসিনীকে ধর্মের নিরিখে বিচার করাকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রচেষ্টা বলেই দেখছে অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
দেশের বীরাঙ্গনাদের প্রতি সম্মানহানিকর মন্তব্য যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না— এমনটাই মত দেশের বহু নাগরিকের। এখন দেখার, বিজেপি নেতৃত্ব বিজয় শাহের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই মামলার ভবিষ্যৎ কী হয়।