হামলা
সন্ত্রাসে মদত দিলে ছাড় নয়, গুলি চললে চলবে গোলা—ভারতের স্পষ্ট বার্তা
ডিজিটাল ডেস্ক: সীমান্তে আপাত শান্তির চাদর থাকলেও থেমে নেই ভারতের কৌশলগত অভিযান। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও, এখনও জারি রয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)। রবিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) বাসভবনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সেই বার্তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar), প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh), জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval), চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান (Gen. Anil Chauhan), সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Gen. Upendra Dwivedi), বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিং (Air Chief Marshal A. P. Singh) এবং নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh Kumar Tripathi)। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, সীমান্তে পাকিস্তান (Pakistan) কোনওরকম উসকানি দিলে তার যোগ্য এবং কঠিন জবাব পাবে তারা। এক কথায় ওই দেশ যদি গুলি চালায় তাহলে এই দেশ গোলা চালাবে।
আরও পড়ুনঃ ‘জাতীয় স্বার্থে আমরা এক’, কিন্তু তথ্য দিক সরকার—রাহুলের খোলা চিঠি মোদিকে
সূত্রের মতে, গত ৭ মে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে সফল হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। তাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, ভারত এবার আর কোনওরকম ‘প্রথমে ধৈর্য’ দেখাবে না। পাকিস্তান গোলাগুলি ছুড়লে পাল্টা আরও কড়া জবাব দেবে ভারত। আর যদি সীমান্তে শান্তি বজায় থাকে, তবে ভারতও অস্ত্র সংবরণ করে থাকবে।
সরকারি সূত্র আরও জানায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং এই অভিযানের মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা নীতিতে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে—’নতুন স্বাভাবিক’ (New Normal)। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের একমাত্র খোলা চ্যানেল ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-এর স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ চালালে তার ফল ভুগতে হবে ইসলামাবাদকে।’ শুধু তাই নয়, পাকিস্তান যদি একদিকে জঙ্গি মদত দিয়ে যায়, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে জলবণ্টন বা বাণিজ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়—তা মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষ করে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) এখন কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি ওই চুক্তি স্থগিত রাখার অবস্থানে এখনও অনড়।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান এখন একেবারে স্পষ্ট এবং নির্দয়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু একটি সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, এটি পাকিস্তানকে দেওয়া একটি জোরালো কূটনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও।
