ভাইরাল খবর
দিঘায় জগন্নাথধাম উদ্বোধন: ৩০ এপ্রিল মহোৎসব, মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি শুরু
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩০ এপ্রিল, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে দিঘায় উদ্বোধন করতে চলেছেন রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ মন্দির ‘জগন্নাথধাম’। বিশেষ এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে, যা শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরেও ‘মেগা ইভেন্ট’-এর রূপ নিতে চলেছে।
মমতা বুধবার নবান্ন সভাঘরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে এই অনুষ্ঠান নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হবে ২৯ এপ্রিল যজ্ঞের মাধ্যমে, এবং ৩০ এপ্রিল সকালে মন্দিরে ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা‘ হবে। এরপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ওড়িশি নৃত্য এবং গায়িকা শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গীত পরিবেশন।
মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কাঠামো, এবং সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে সাজানো হয়েছে দিঘার মন্দির চত্বর। মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে রাজ্যের পাঁচটি মন্ত্রীর একটি দল ২৭ এপ্রিল দিঘায় পৌঁছাবে, যাতে পুরো অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে চলতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ধর্মতলা থেকে আর জি কর—আন্দোলনে ১৫ লক্ষ টাকার খরচ, অভয়া পেল না কোনও সাহায্য?
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘দিঘার পরিবেশে পুরো অনুষ্ঠানটি হবে শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত। আমরা কেউ যেন অস্বস্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক থাকবে।’’
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের শীর্ষ নেতারা, এবং পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিথিরা দিঘায় আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে কোনো ধরনের অর্থ সংগ্রহ করা হবে না, এবং সমস্ত ত্রাণ ব্যবস্থা বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
এছাড়া, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মমতা দিঘা ও আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে বড় ধরনের কোনও গোলমাল না হয়। এছাড়াও, মন্দিরের চূড়ায় পুরীর মন্দিরের মতো একটি ধ্বজা বাঁধা হবে, যার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের রেল কর্তৃপক্ষকেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর কাছে এই বিষয়ে কোন আবেদন পাঠানো হবে না, এমনও জানিয়েছেন তিনি।
এই সমস্ত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘায় একটি আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সূচনা করতে চলেছেন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচায়ক হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত হবে।
