ভাইরাল খবর
ধর্মতলা থেকে আর জি কর—আন্দোলনে ১৫ লক্ষ টাকার খরচ, অভয়া পেল না কোনও সাহায্য?
ডিজিটাল ডেস্কঃ আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল ধর্মতলা এবং আর জি কর হাসপাতাল চত্বর। অভয়া তহবিল গড়ে ওঠে এই আন্দোলনের মধ্যেই। উদ্দেশ্য ছিল নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনি লড়াই চালানো। কিন্তু আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া সেই আবেগের জোয়ারে এবার প্রশ্নের ঝড় তুলেছে প্রকাশ্যে আসা এক হিসেব—এই আন্দোলনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকারও বেশি!
জানা যাচ্ছে, ধর্মতলায় অনশন মঞ্চে খরচ হয়েছে ৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ২৫৭ টাকা এবং আর জি করের ধরনা মঞ্চে খরচ দেখানো হয়েছে ৬ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ আন্দোলনের দু’টি পর্যায়ে মোট খরচ ১৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় দেখে অবাক সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসক মহলের একাংশও।
আরও পড়ুনঃ ‘ভোট রক্ষা অভিযান কর্মসূচি’, ভুয়ো ভোটার ধরতে চালু নতুন অ্যাপ
প্রসঙ্গত, অভয়ার নামে তহবিল গঠন করে অনুদান তোলা হয়েছিল। সেই টাকা কীভাবে খরচ হল—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলও। তাঁদের অভিযোগ, জুনিয়র ডাক্তাররা প্রকৃত কাজের চেয়ে প্রচারে বেশি মন দিয়েছিলেন, এবং এই ব্যয় একপ্রকার ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’-এর খরচ হিসেবেই ধরা উচিত।
জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে তহবিলের হিসেব প্রকাশের পরেও বেশ কিছু প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। যেমন—
- নির্যাতিতার পরিবারের হাতে কোনও অর্থ সাহায্য এখনও পৌঁছেছে কি না
- অভয়ার জন্য আইনি লড়াই-এর বাস্তবিক পদক্ষেপ কোথায়
- কোনও আইনজীবী নিযুক্ত হয়েছেন কি না এবং তাদের পারিশ্রমিকের পরিমাণ কত
এই প্রসঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট জানায়, তহবিলে বাকি থাকা টাকা অভয়ার আইনি লড়াই-এর জন্য ব্যয় করা হবে। কিন্তু সেই লড়াই কবে শুরু হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কোনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেনি তারা।
তথ্য স্বচ্ছতার দাবিতে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—এত অস্বচ্ছভাবে তহবিল পরিচালনা করা হলে তা ভবিষ্যতে আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে আন্দোলনের সময় জুনিয়র ডাক্তারদের আত্মত্যাগ, অনশন ও সামাজিক বার্তা দেওয়া কতখানি বাস্তবিক ফল এনেছে, তা নিয়েও নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।
একজন সাধারণ আন্দোলনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পথে নেমেছিলাম ন্যায়বিচারের জন্য, কেউ ভাবতেই পারেনি আন্দোলনের তহবিল নিয়ে এতটা অস্বচ্ছতা থাকবে।”
সর্বোপরি, তহবিলের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়বিবরণ এবং অভয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত, এই আন্দোলনের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে সমাজের নানা স্তর।
