ভাইরাল খবর
‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক? জাতীয় গানের বিধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) কি এবার জাতীয় সঙ্গীতের (National Anthem) মতোই নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইনি কাঠামোর আওতায় আসতে চলেছে? সেই দিকেই নাকি ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)। সূত্রের খবর, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Home Ministry) ডাকা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ (Jana Gana Mana)-এর মতোই জাতীয় গানের ক্ষেত্রেও প্রোটোকল থাকা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উঠে এসেছে—‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে কি না, কোন কোন সরকারি বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশন করা হবে, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে একসঙ্গে না কি আলাদা সময়ে গাওয়া হবে, সেই সব প্রশ্ন। পাশাপাশি, জাতীয় গানের অবমাননা হলে কোনও শাস্তিমূলক বিধান থাকা উচিত কি না, তা নিয়েও মতামত বিনিময় হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বিজেপির (BJP) বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান আরও দৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ। দলের অভিযোগ, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস গানটির কিছু অংশ বাদ দিয়ে তার গুরুত্ব কমিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও নতুন করে তুলে ধরছে শাসক দল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কেন্দ্র বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে একটি বছরব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে গত নভেম্বর মাসে। দ্বিতীয় পর্ব চলছে এই মুহূর্তে। তৃতীয় পর্ব নির্ধারিত ২০২৬ সালের অগস্টে এবং চতুর্থ তথা শেষ পর্ব হবে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা নিয়ে একাধিক মামলা আদালতে উঠেছে। জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১ (Prevention of Insults to National Honour Act) অনুযায়ী শাস্তির বিধান কতটা প্রযোজ্য, সেই প্রশ্নও বারবার সামনে এসেছে।
ঐতিহাসিকভাবে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের (Freedom Movement) এক শক্তিশালী প্রতীক। ১৮৭৫ সালে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ এবং ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই গানটি জাতীয় চেতনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ে—একই সঙ্গে শুরু হয় তার ঘিরে বিতর্কও।
