দেশের খবর
কাবুলে ফের দূতাবাস চালু ভারতের, পাক-আফগান উত্তেজনার মাঝেই কূটনৈতিক বার্তা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান সংঘাত (conflict) ও উত্তেজনার আবহে কাবুলে ভারতের কূটনৈতিক (diplomatic) উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হল। দীপাবলির দিনেই দিল্লির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, আফগানিস্তানে ভারতের টেকনিক্যাল মিশনকে (technical mission) এখন থেকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের (embassy) মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালে তালিবানরা (Taliban) আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পরে ভারত কাবুলে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। যদিও পরে ২০২২ সালের জুন মাসে ফের সীমিত আকারে সেখানে একটি টেকনিক্যাল দল মোতায়েন করা হয়। এতদিন মধ্যম স্তরের কূটনীতিকের নেতৃত্বে কেবল প্রযুক্তিগত কার্যক্রম চালানো হত।
তবে এবার ভারত সরকার সরাসরি জানিয়েছে, কাবুলের টেকনিক্যাল মিশন এখন থেকে দূতাবাসের মর্যাদা পাবে। যদিও তালিবান সরকারকে এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি (official recognition) দেয়নি ভারত। সেই কারণে দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত (ambassador) নয়, প্রধান কূটনীতিককে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ (Charge d’Affaires) মর্যাদায় রাখা হবে।
সম্প্রতি তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি (Amir Khan Muttaqi) ৬ দিনের ভারত সফর করেন। সেই সফরেই তিনি দাবি করেছিলেন, ভারত কাবুলে ফের দূতাবাস চালু করবে। সফরের ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই দিল্লি সেই ঘোষণা করল।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। আফগান সমাজের অগ্রাধিকার ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারতের উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।”
এই ঘোষণার জেরে পাকিস্তানের অস্বস্তি বাড়তে পারে বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। কারণ, সম্প্রতি ইসলামাবাদ আফগানিস্তানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে ভারতের বিরুদ্ধে, যে ভারত নাকি পাক-আফগান উত্তেজনায় ইন্ধন দিচ্ছে। যদিও তালিবান সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই কাবুলে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় জোরদার করা ইসলামাবাদকে আরও চাপে ফেলতে পারে।


