দেশ
রায় কার্যকর হলে দেশে এই প্রথম কোনো মহিলাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে
নিউজ ডেস্ক , ১৯ ফেব্রুয়ারি : প্রেমিককে বিয়ে করতে বাধা দেওয়ায় পরিবারের ৭ সদস্যকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে৷ প্রায় ১৩ বছর আগেকার উত্তরপ্রদেশের নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল সারা দেশে। এবারে সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হল অভিযুক্ত শবনম আলি৷ আদালতের নির্দেশে তার ফাঁসির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে মথুরার জেলে।
৩৮ বছর বয়সির শবনম এই মুহূর্তে রামপুর জেলে বন্দি। ২৫ বছর বয়সে সে ওই কাণ্ড ঘটিয়েছিল। জানা গিয়েছে, পাড়ার ছেলে সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শবনমের। সেলিমকে বিয়ে করবেন বলে জেদ ধরে বসেছিল সে। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতায় পেছনে পড়ে থাকা সেলিমের সঙ্গে শবনমের বিয়ের অমত ছিল বাড়ির লোকেদের। আর এরপরেই সেলিমের সঙ্গে পরিকল্পনা করে পরিবারের সদস্যদের শবনম খুন করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মা, বাবা, দুই দাদা, বৌদি, ১০ মাসের ভাইপো এবং এক আত্মীয়কে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাইয়ে প্রথমে অজ্ঞান করে দেন। তার পর গলার নলি কেটে একে একে সকলকে খুন করেন। ২০১০ সালে সেই মামলায় শবনম এবং সেলিম, দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় আমরোহার দায়রা আদালত। সাজা মকুবের জন্য তার পর থেকে গত ১১ বছরে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছেন শবনম। কিন্তু নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করে দেখতে সুপ্রিম কোর্টে আলাদা করে আবেদনও জানান তিনি। কিন্তু ২০২০-র জানুয়ারি মাসে তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। তবে বিচারবিভাগীয় কমিটির কাছে আবেদনটি ফের একবার পুনর্বিবেচনা করে দেখা এবং কিউরেটিভ পিটিশন দায়ের করার উপায় এখনও শবনমের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সব আইনি দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শবনমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। তবে শবনমের ফাঁসি কার্যকর করার দিন ক্ষণ এবং সময় ঠিক করতে আমরোহা দায়রা আদালতে ইতিমধ্যেই আবেদন জমা পড়ে গিয়েছে। প্রায় দেড়শো বছর আগে তৈরি হওয়া মথুরা জেলই দেশের মধ্যে একমাত্র জেল, যেখানে মহিলাদের ফাঁসি দেওয়া হয়। স্বাধীন ভারতে এখনও পর্যন্ত কোনও মহিলাকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি এখানে। তাই এখানকার ফাঁসিকাঠ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল এতকাল। তবে মথুরা জেলে পুরোদমে ফাঁসির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষকে শবনমকে ফাঁসিতে ঝোলানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে বলা হয়েছে ইতিমধ্যেই। মথুরা জেলের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট শৈলেন্দ্র মৈত্র জানিয়েছেন, ‘‘ফাঁসিকাঠে কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো মেরামত হচ্ছে। বিহারের বক্সার জেল থেকে ফাঁসির দড়ি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ফাঁসুড়ে পবন জহ্লাদ এসে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে গিয়েছেন।’’ অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর পরোয়ানা তাঁদের হাতে এসে পৌঁছয়নি বলে জানিয়েছেন শবনমের আইনজীবীরা।
