বিশ্বের খবর
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি? সিরিয়ায় নতুন করে নৃশংসতার ছায়া
ডিজিটাল ডেস্কঃ সিরিয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে, আর তাতে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জয়ের উল্লাস! বাজি ফাটাতে গিয়ে বিপত্তি, মালদহের হকার্স মার্কেটে অগ্নিকান্ড
গত ডিসেম্বরেই বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও তাদের মিত্র ‘জইশ আল-ইজ্জা’র যৌথ আক্রমণে রাজধানী দামাস্কাসের দখল হারায় আসাদ সরকার। ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই আসাদ-সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন শুরু হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংখ্যালঘু আলওয়াইট সম্প্রদায়, যারা মূলত লাটাকিয়া ও টারটস এলাকায় বসবাস করে।
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরিচয়পত্র দেখে আলওয়াইট সম্প্রদায়ের মানুষদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গ্রামের পর গ্রামে মৃতদেহের স্তূপ জমছে, অথচ নিহতদের দেহ নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার মূল কারণ আসাদের শাসনকাল। সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ আলওয়াইট সম্প্রদায়ের হলেও, আসাদের শাসনে প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে তাদের ছিল ব্যাপক আধিপত্য। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে এই পক্ষপাত দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তৈরি করেছিল, যা এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃটানা টসে হেরেও ট্রফি জয়,ট্রফি জিতে কত টাকা পেল ভারতীয় দল!
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন জাবলেহ্ শহরে এক অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে সরকারি বাহিনী আসাদ-সমর্থকদের বাধার সম্মুখীন হয়। সেখান থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। ব্রিটেনে অবস্থিত সিরিয়ার পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৭৪৫ জন সাধারণ নাগরিক, ১২৫ জন সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মী এবং ১৪৮ জন আসাদ-সমর্থক নিহত হয়েছে।
