বিশ্বের খবর
শত্রু থেকে সহচর? শুল্ক ইস্যুতে উত্তাপ কমাতে উদ্যোগী আমেরিকা ও চিন
ডিজিটাল ডেস্কঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের মধ্যে গত কয়েক বছরে সম্পর্কের অন্যতম সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু— শুল্কনীতি। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), অন্যদিকে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। দু’দেশের মধ্যে কার্যত ‘শুল্ক-যুদ্ধ’ চলছিল বহুদিন ধরেই। কেউ শুল্ক বাড়িয়েছে তো অন্যপক্ষ পাল্টা জবাব দিয়েছে আরও জোরদারভাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি ফোনালাপ এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খানিকটা প্রশমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রথমবার ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প ও জিনপিং। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই কথোপকথনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দু’দেশের চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা, বিরল খনিজসম্পদ এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির সম্ভাবনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোনালাপের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং ট্রাম্প। তিনি জানান, তাঁকে চিন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে (Melania Trump) সঙ্গে নিয়ে চিনে যাবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন শি জিনপিংকেও।
আরও পড়ুনঃ পদপিষ্টে ১১ মৃত্যুর জেরে প্রশাসনিক রদবদল কর্নাটকে, বরখাস্ত সিএম-এর সচিব
তবে আলোচনায় কোনও নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি ট্রাম্প। বরং তিনি মন্তব্য করেন, “শি একজন অত্যন্ত কড়া নেতা। ওঁর সঙ্গে কোনও রকম চুক্তি করাটা সহজ নয়।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আমেরিকা চিন থেকে আমদানিকৃত একাধিক পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকান পণ্যের উপরেও শুল্ক বসায় চিন। এরপর একাধিক দফায় শুল্কবৃদ্ধির জেরে আমদানি পণ্যে মার্কিন শুল্কের হার সর্বোচ্চ ১৪৫ শতাংশে পৌঁছায়। এতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায়।
এই প্রেক্ষিতে দুই রাষ্ট্রনেতার সাম্প্রতিক ফোনালাপ এবং সফর বিনিময়ের ইচ্ছা আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এখনও কোনও চুক্তি হয়নি, তবে দুই শীর্ষনেতার সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা ভবিষ্যতের বাণিজ্য আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
