রাজনীতি
মিড ডে মিল নিয়ে বড় ফাঁস! কেন্দ্রের নজরে রাজ্য, বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত তুঙ্গে
ডিজিটাল ডেস্কঃ সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের একাংশ মিড ডে মিল (Mid Day Meal) পাচ্ছে না বা খাচ্ছে না—এই পরিসংখ্যান ঘিরে ফের রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। কেন্দ্রের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৪৬ জন পড়ুয়া মিড ডে মিলের আওতায় নথিভুক্ত হলেও, প্রকৃতপক্ষে খেয়েছে মাত্র ৭৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৪৬ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৩১ শতাংশ ছাত্রছাত্রী মিড ডে মিল পায়নি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে জবাবদিহি করতে বলেছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। আর এই প্রেক্ষিতেই শুরু হয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপির রাজনৈতিক তরজা।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের নেতারা মিড ডে মিলের চাল চুরি করছে। ১০০ শতাংশ দেখিয়ে চাল তুলে নিচ্ছে, কিন্তু রান্না হচ্ছে মাত্র ৫০ শতাংশের জন্য। বিষয়টি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) নজরে এনেছি।” সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, “৪ হাজার কোটি টাকা মিড ডে মিল প্রকল্পের বরাদ্দ পড়ে রয়েছে। রাজ্য সেই টাকা খরচই করছে না। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না।”
আরও পড়ুনঃ “জনস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা করছে সরকার,” কোভিড পোর্টাল নিয়ে সরব শুভেন্দু অধিকারী
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতারা এই অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন। অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “মিড ডে মিলের মান নিয়ে কেন্দ্র নিজেই রাজ্য সরকারকে প্রশংসা করেছে। বাংলার স্কুলে সপ্তাহে একদিন মাংস ও মরশুমি ফল দেওয়া হচ্ছে—এটা অন্য কোনও রাজ্যে হয় না।”
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কভারেজ ৬৯ শতাংশ হলেও বিহারে ৪২, গুজরাটে ৬৪, রাজস্থানে ৫২ ও উত্তরপ্রদেশে ৬৪ শতাংশ। তাহলে কি ওই রাজ্যগুলো চাল চুরি করছে? বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
তবে পরিসংখ্যান বলছে, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু অঞ্চলে মিড ডে মিল প্রাপকের হার ৫০ শতাংশেরও কম। চলতি শিক্ষাবর্ষে মিড ডে মিলের আওতায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আরও কমে ৮০ লক্ষের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক গাফিলতি না কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র—তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। তবে এর জেরে মিড ডে মিল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রভাবিত হয়, এখন সেটাই দেখার।
