বিশ্বের খবর
‘মিথ্যা খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ, ট্রাম্পের আইনি পদক্ষেপ মার্কিন সংবাদপত্র-এর বিরুদ্ধে
ডিজিটাল ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সরব হলেন আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে। এবার তাঁর নিশানায় দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস (New York Times)। ট্রাম্প এই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার (15 Billion USD) অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার কোটির মানহানির মামলা (Defamation Lawsuit) দায়ের করেছেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, নিউ ইয়র্ক টাইমস ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যে খবর (Fake News) প্রচার করছে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মানহানির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এই সংবাদপত্রটি ডেমোক্র্যাট পার্টি (Democrat Party)-র একটি ভার্চুয়াল মুখপত্র (Virtual Mouthpiece) হয়ে উঠেছে।
এই বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (Truth Social)-এ একটি পোস্ট করে লেখেন,
“আমাদের দেশের ইতিহাসে অন্যতম খারাপ একটি সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা দায়ের করেছি। এটি এখন থেকে র্যাডিক্যাল লেফট ডেমোক্র্যাট পার্টির একটি ভার্চুয়াল মুখপত্র হয়ে উঠেছে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নিউ ইয়র্ক টাইমস তাঁকে এবং তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তাই তিনি এবার গ্রেট স্টেট অফ ফ্লোরিডা (Great State of Florida)-তে এই মামলা করেছেন।
এই প্রথম নয়, এর আগেও ট্রাম্প একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম (US Media Houses)-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যেমন, চলতি বছরের শুরুতে, এবিসি নিউজ (ABC News) একটি মানহানির মামলা মীমাংসা করতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গ্রন্থাগারের (Presidential Library) জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার (15 Million USD) দিতে সম্মত হয়েছিল।
সেই মামলার কেন্দ্রে ছিলেন এবিসি নিউজ-এর জনপ্রিয় অ্যাঙ্কর (Anchor) জর্জ স্টেফানোপুলোস (George Stephanopoulos)। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভুল করে ট্রাম্পকে একটি মামলায় ধর্ষণের দায়ে দোষী (Guilty of Rape) বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পরে এবিসি নিউজ আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করে বিবৃতি দেয়।
অন্যদিকে, সিবিএস (CBS)-এর মূল সংস্থা প্যারামাউন্ট গ্লোবাল (Paramount Global)-ও একটি মামলার নিষ্পত্তি করতে ১৬ মিলিয়ন ডলার (16 Million USD) দিতে রাজি হয়েছিল। সেই মামলা ছিল কমলা হ্যারিস (Kamala Harris)-এর একটি সাক্ষাৎকার (Interview) ঘিরে, যা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন (Misrepresented) করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপগুলি তাঁর সমর্থকদের কাছে তাঁকে একটি “সত্যের যোদ্ধা” হিসেবে উপস্থাপন করছে, আবার বিরোধীরা একে দেখছেন গণমাধ্যম স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে।


