বাংলাদেশ
শপথ বাক্যে মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবের উল্লেখ বাদ দিয়ে বিতর্কে বাংলাদেশের শিক্ষা নীতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার (Bangladesh interim government) দেশের স্কুল-কলেজে প্রার্থনা সভার শপথ বাক্যে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Education) সদ্য প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকায় মূল তিনটি বিষয় — মুক্তিযুদ্ধ (Liberation War), জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman) এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা (Non-communal consciousness) — সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
আগের শপথ বাক্য, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলার স্বপ্নের কথা বলা হতো, তা এখন বাদ পড়েছে। নতুন শপথে শুধুমাত্র ‘মানুষের সেবা’, ‘দেশের প্রতি আনুগত্য’ এবং ‘দুর্নীতির বিরোধিতা’ এর প্রতিশ্রুতি থাকছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার একটি আবেগহীন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যা মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে ক্ষীণ করে দেবে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই ‘ফতোয়া’ বা ‘হুকুম’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার ‘শেখ মুজিবকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকার করে না’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করেনি বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পাঠ্য বই থেকেও মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কিত বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মেরও কিছু অংশ বাদ পড়েছে।
আরও পড়ুনঃরাজভবনে আসছে বড় রদবদল, রাজ্যপাল পদে আসতে চলেছে নতুন মুখ
নতুন নির্দেশিকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রহিমা আক্তার (Rahima Akter) স্বাক্ষরিত শপথ বাক্যে বলা হয়েছে,
“আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব। দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব। অন্যায় ও দুর্নীতি করিব না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না। হে মহান আল্লাহ আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ, বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আ-মি-ন।” এখন বিতর্কের মুল কারণ হচ্ছে যে, বাংলাদেশে অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের ছাত্র ছাত্রী রয়েছে তাদের কি এখন বিদ্যালয়ে ধর্মের জন্য আপোশ করতে হবে।
এর আগে ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশে বর্তমান শপথ বাক্যে ‘অন্যায় ও দুর্নীতির বিরোধিতা’ যুক্ত হয়েছিল। তবে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উল্লেখ এ বার সম্পূর্ণ বাদ পড়েছে, যা রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
