ডিজিটাল ডেস্কঃ গাজা ভূখণ্ডে আবারও প্রবল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতির পর এটিই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণে শতাধিক প্যালেস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন। গাজার স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। ইজ়রায়েলি হানা শুরু হওয়ার পর থেকে গাজ়ায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলিতে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা সরকারের অনুমোদনেই হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি কাতার, মিশর ও আমেরিকার উদ্যোগে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ১ মার্চ তা শেষ হয়ে যায়। নতুন করে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। এরই মধ্যে ইসরায়েল বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে—ত্রাণ পাঠানো বন্ধ, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং সর্বশেষ এই সামরিক আক্রমণ।
আরও পড়ুনঃ পথ দুর্ঘটনার নামে ছক, স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে ধরা পড়ল যুবক
মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী একাধিক হামলা চালিয়েছে গাজায়। সূত্রের খবর, হামাসের কৌশলগত স্থানগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী যুদ্ধবিরতি আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতর থেকেই হামলার নির্দেশ এসেছে। নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, হামাসের বিরুদ্ধে এখন আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা গাজার বিভিন্ন শহর—গাজা সিটি, খান ইউনুস, দের-আল-বালাহ এবং রাফাহ অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। এক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ প্রয়োজন, ততক্ষণ অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। সিএনএন জানাচ্ছে, বোমাবর্ষণের ফলে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য তৎপর গাজার প্রশাসন। গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।