রাজনীতি
বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকার মন্তব্যে আপত্তি ঢাকার
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গাবার্ডের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও চরমপন্থা নিয়ে গাবার্ডের উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি ঢাকা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।বাংলাদেশ সরকারের মতে, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে অগ্রগামী, যেখানে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বজায় রাখা হয়। সরকার আরও দাবি করেছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
আরও পড়ুনঃ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক নিহত, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা
ভারত সফরের সময় মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান গাবার্ড প্রথমে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। গাবার্ড বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও হেনস্থার ঘটনা ঘটছে, যা নিয়ে আমেরিকা উদ্বিগ্ন। তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ’ একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গাবার্ডের ভাষ্যমতে, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশ্য হলো ইসলামিক খিলাফতের প্রতিষ্ঠা, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এই মন্তব্যের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই এবং তা অতিরঞ্জিত। সরকার বলেছে, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পথ দুর্ঘটনার নামে ছক, স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে ধরা পড়ল যুবক
ঢাকার দাবি, মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার বলছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অতীতে যেকোনো ধরনের উগ্রপন্থী তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনূস প্রশাসনের মতে, এ ধরনের মন্তব্যের ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হলে তার বিরুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে।
