অপারেশন সিঁদুর
বিধানসভায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে তীব্র বচসা, অগ্নিমিত্রাকে কটাক্ষ মমতার: “ফ্যাশন বোঝেন, রাজনীতি নয়”
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মঙ্গলবার দেখা গেল বিরল রাজনৈতিক উত্তেজনা। সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) নিয়ে আলোচনার সময় সরাসরি বচসায় জড়িয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলা এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী যখন সেনাবাহিনীর সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করছিলেন, তখনই তাঁকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন অগ্নিমিত্রা পাল। বলেন, “আপনি তো পহেলগামের ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।” তার উত্তরে ক্ষিপ্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পহেলগাম নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঠিক করেছি। আপনি রাজনীতি বোঝেন না, শুধু ফ্যাশন বোঝেন। দু’দিন হল রাজনীতিতে এসেছেন, আর এখন বড় বড় কথা বলছেন।”
এরপর আরও তীব্র হয় বিতর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সামান্য সৌজন্যতা নেই, ভদ্রতা নেই। বেশি কথা বলবেন না। আপনার কীর্তিকলাপ তো জানিই, সেগুলো আর বললাম না।” পাল্টা প্রতিবাদ জানান অগ্নিমিত্রা পালও। বলেন, “আমি অবশ্যই বলব।” এই সময় মুখ্যমন্ত্রীকে আরও বলতে শোনা যায়, “আপনারা অপদার্থ, বিজেপি দেশের সর্বনাশ করছে।”
আরও পড়ুনঃ আতঙ্কে মরণঝাঁপ! দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন জনের করুণ মৃত্যু
পরে মুখ্যমন্ত্রী পহেলগাম জঙ্গি হামলার (Pahalgam Terror Attack) তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “এতদিনেও জানা গেল না হামলাকারীরা কবে এল, কোথা থেকে এল। এটা গোয়েন্দা ব্যর্থতা। সরকারের টোটাল ইনটেলিজেন্স ফেলিওর।” একইসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, “পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) দখলের এমন সুযোগ কেন নেওয়া হল না?”
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হানায় প্রাণ হারান ২৬ জন ভারতীয় নাগরিক। সেই ঘটনার ১৫ দিন পর, ৭ মে রাতে ভারতীয় সেনা পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে। তবে তারপর আচমকা সেনা অভিযান কেন থামানো হল, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর এই বক্তব্যে বিধানসভায় চূড়ান্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়করা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হস্তক্ষেপ করেন স্পিকার।
সেনাবাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে এমন রাজনৈতিক রেষারেষি বিরল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ ও বিজেপি শিবিরের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
