অপারেশন সিঁদুর
বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশের! ‘অপারেশন সিঁদুর’ এও ছিলেন এই যোদ্ধা
ডিজিটাল ডেস্কঃ অসমের কার্বি আংলংয়ে গত বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের শহিদ হওয়ার খবর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই শোকের আবহেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ও গর্বের তথ্য। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ২৮ বছর বয়সি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর (Purvesh Durgakar) ছিলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের গোপন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর অন্যতম লড়াকু সদস্য।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার (J&K Pahalgam Attack) পর ৭ মে ভারত যে পাল্টা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল, পূর্বেশ ছিলেন তার প্রথম সারির যোদ্ধা। নাগপুরের বাসিন্দা পূর্বেশের বাবা রবীন্দ্র দুর্গাকর জানান, অভিযানের সময় ছেলের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ (Communication) ছিল না। এমনকি তাঁর মোবাইল ফোনটিও জমা রাখা হয়েছিল। অপারেশন শেষ হওয়ার ১৫ দিন পর তাঁরা জানতে পারেন যে তাঁদের ছেলেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করতে আকাশে উড়েছিলেন।
অসমের তেজপুরে কর্মরত থাকলেও রানওয়ে মেরামতির (Runway Repair) জন্য জোড়হাট এয়ারবেস থেকে রুটিন প্রশিক্ষণ (Training) উড্ডয়ন করেছিলেন পূর্বেশ এবং তাঁর সহকর্মী স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের পর থেকে তাঁদের বিমানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মাত্র চার বছরের ছোট্ট কর্মজীবনে অসামান্য দেশপ্রেমের নজির গড়েছেন এই তরুণ অফিসার। তাঁর বাবা বলেন, “ছেলের মৃত্যুতে আমরা শোকস্তব্ধ, কিন্তু সে বায়ুসেনার (Air Force) অংশ হতে পেরে ভীষণ গর্বিত ছিল।” ১০ দিন আগেই পরিবারের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাড়ি থেকে ফেরা এই বীর সন্তানের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা (Inspiration) হয়ে থাকবে। রাশিয়ার তৈরি এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটির দুর্ঘটনা কেন ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে বায়ুসেনার বিশেষজ্ঞ দল।


