দেশের খবর
ভারত-চিনকে শাস্তি দিতে চায় আমেরিকা! সামনে এল ট্রাম্পের বিস্ফোরক পরিকল্পনা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি (Trade Agreement) এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তার আগেই বিস্ফোরক প্রস্তাব সামনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক জোগান বন্ধ করতে ভারতের উপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক (tariff) চাপানো উচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) কাছে এই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে এই শুল্কের আওতায় আনা হোক চিনকেও।
যুদ্ধ থামাতে না পেরে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের (Ukraine-Russia war) সমাপ্তি নিয়ে ট্রাম্প একসময় দাবি করেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলবেন। তবে বাস্তবে তেমন কিছু হয়নি। বরং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেও ফল মেলেনি। এর মধ্যেই হোয়াইট হাউস (White House) জুড়ে ক্রমবর্ধমান হতাশা (frustration) দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস (Financial Times)-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, রাশিয়ার বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক ভারত ও চিনের উপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর। কারণ এই দেশগুলির তেল কেনার অর্থেই মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
ইউরোপের সঙ্গ চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসন
এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা শুল্ক আরোপে প্রস্তুত। তবে এটা তখনই সম্ভব, যদি ইউরোপীয় অংশীদাররা একসঙ্গে থাকে।” এই মন্তব্যের সূত্র ধরে ধরে ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, ভারত-চিনকে আর্থিকভাবে চাপে ফেলতে একটি যুক্ত ফ্রন্ট (unified front) তৈরি করা হোক।
আগেও শুল্ক বাড়িয়েছেন ট্রাম্প
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি (tariff hike) করেছেন। চিনা পণ্যের উপর শুল্ক ৩০% পর্যন্ত উঠেছে। সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ বিমান হামলার পরে, ট্রাম্প আরও নিষেধাজ্ঞা (sanctions) আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ট্রাম্প উপদেষ্টার বিস্ফোরক মন্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো (Peter Navarro) এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ভারত হচ্ছে শুল্কের মহারাজা (Tariff King)।” তাঁর দাবি, “যদি নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় (trade talks) না আসে, তবে ভারতের জন্য ফল ভালো হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। আমাদের এখনই এই অসাম্য (imbalance) মোকাবিলা করতে হবে।”
