বাংলাদেশ
একবছর আগে আজকের দিনেই বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশ! মনে আছে সেই রাতের কথা?
ডিজিটাল ডেস্কঃ শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) নাম একসময় ছিল বাংলাদেশ রাজনীতির শীর্ষে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই রাজনীতির মঞ্চে ঘটে যায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। দীর্ঘদিনের একদলীয় শাসন, আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, এবং ক্রমবর্ধমান ছাত্র বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে সেদিনই অবসান ঘটে ‘হাসিনা যুগ’-এর।
শুরুটা হয় শিক্ষাক্ষেত্রে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে ছাত্র-আন্দোলন দিয়ে। সেই আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় সর্বজনীন গণআন্দোলনে। জুলাই মাসজুড়ে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অরাজকতা। ছাত্ররা আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় পুলিশি দমননীতি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সেনাবাহিনীর মধ্যেও মতবিরোধ শুরু হয়। তৎকালীন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকির (Maj Gen Tariq Ahmed Siddique) পরামর্শে হাসিনাকে পদত্যাগের কথা জানানো হয়, কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি।
আরও পড়ুনঃ মমতার সিলমোহর, কল্যাণের ইস্তফা মঞ্জুর করে কাকলিকে লোকসভার হুইপ করল তৃণমূল
গণভবন ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লা আল মামুন জানান, নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ। হাসিনা বলেন, “আমাকে গুলি করে মারো, গণভবনেই কবর দাও।” পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষমেশ লন্ডন থেকে ছেলের ফোনে, সজীব ওয়াজেদ (Sajeeb Wazed)-এর অনুরোধে শেখ হাসিনা পদত্যাগে রাজি হন।
দলীয় নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর বোন শেখ রেহানাকে (Sheikh Rehana) সঙ্গে নিয়ে সামরিক কপ্টারে ঢাকা ছাড়েন। ভারত সরকারের সহযোগিতায় দিল্লিতে পৌঁছন শেখ হাসিনা, বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। Nobel Laureate অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস (Dr Muhammad Yunus) দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপদেষ্টা হিসেবে। আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল শুধুমাত্র একটি দিন নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড়, যা নতুন ভবিষ্যতের পথচলা শুরু করেছে।
