বিল পাস হতেই আনন্দে কাঁদলেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা, ব্রিটেনে স্বেচ্ছামৃত্যু আইনি স্বীকৃতি পেল
Connect with us

বিশ্বের খবর

বিল পাস হতেই আনন্দে কাঁদলেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা, ব্রিটেনে স্বেচ্ছামৃত্যু আইনি স্বীকৃতি পেল

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল ব্রিটেন (Britain)। অবশেষে বহু বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে (British Parliament) পাশ হল স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার সংক্রান্ত বিল। শুক্রবার হাউস অফ কমন্সে (House of Commons) ৩১৪-২৯১ ভোটে এই বিল পাশ হয়। গোঁড়া ধর্মীয় বিশ্বাসের বেড়াজাল ছিঁড়ে, শতাব্দীর পুরনো নিয়মের অবসান ঘটাল ব্রিটেন। এবার থেকে নিরাময়ের অযোগ্য মরণব্যাধিতে আক্রান্ত, দীর্ঘদিন কোমায় থাকা কিংবা প্রবীণ-চিররুগ্ন নাগরিকেরা তাঁদের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন আইন মেনে।

বিল পাশ হতেই ব্রিটেন জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। লন্ডনের (London) ওয়েস্টমিনস্টার (Westminster) চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন বহু প্রবীণ নাগরিক। বহু মানুষ স্বেচ্ছামৃত্যুর দাবিতে সমর্থন জানিয়ে কেঁদে ফেলেন। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, যেখানে লেখা— ‘My Life, My Death’ অর্থাৎ ‘আমার জীবন, আমার মৃত্যু’।

এই ‘Terminally Ill Adults (End of Life)’ বিলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ খুলে দেওয়া হল। বিল বলছে, মানসিকভাবে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্করা, যাঁরা এমন রোগে আক্রান্ত, যেখানে চিকিৎসা আর সম্ভব নয় এবং যাঁদের বাঁচার সম্ভাবনা ছয় মাস বা তার কম, তাঁরাই কেবলমাত্র এই অধিকার পাবেন। তবে এক্ষেত্রে ন্যূনতম দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সম্মতি ও একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

বিলের অন্যতম প্রবক্তা লেবার পার্টির (Labour Party) সাংসদ কিম লিডবিটার (Kim Leadbeater) বলেন, “এই আইন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জয়। রোগাক্রান্ত মানুষ যেন সম্মানের সঙ্গে নিজের জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তারই পথ তৈরি হল।”

Advertisement
ads

আরও পড়ুনঃ৬২৯ বছরের হিন্দু মেলাকে থামিয়ে দিল মমতার পুলিশ! উত্তাল মালদা, আদালতে যাওয়ার হুমকি উদ্যোক্তাদের

এতদিন ধরে ক্যাথলিক ধর্মীয় অনুশাসনে আত্মহত্যা বা স্বেচ্ছামৃত্যু ব্রিটেনে নিষিদ্ধ ছিল। সেই প্রথা ভেঙে আজ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ঐতিহাসিকভাবে এই বিল পাস হওয়াকে ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলেই মনে করছেন অনেকেই। এখন এই বিল যাবে হাউস অফ লর্ডসে (House of Lords), সেখানেও পাস হলে তবেই এটি আইনে পরিণত হবে।

তবে এই বিল নিয়ে সমাজ দ্বিধাবিভক্ত। বিলের বিরোধিতায় এদিন পাল্টা অবস্থানে নামেন একদল মানুষ। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড— “Kill the Bill, Not the Ill”। বিরোধীদের মতে, “জীবন রক্ষা করাই চিকিৎসার দায়িত্ব। স্বেচ্ছামৃত্যুকে আইনি স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে।”

এক প্রবীণ নাগরিক ডেভিড ওয়াকার (David Walker) বলেন, “আমার স্ত্রী মৃত্যুর আগে তিন বছর কীভাবে যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন, আমি তা নিজে দেখেছি। আজকের এই আইন, সেই যন্ত্রণার বিরুদ্ধে একটি মানবিক জয়।”

Advertisement
ads

অন্যদিকে, ডাক্তার এলিজাবেথ বার্ডেন (Elizabeth Barden) বলেন, “এই সিদ্ধান্ত একটি বিপজ্জনক ঢালু পথ। একবার আইনি স্বীকৃতি পেলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হবে।”

প্রসঙ্গত, ব্রিটেনের আগে অস্ট্রেলিয়া (Australia), কানাডা (Canada) এবং আমেরিকার (USA) কিছু রাজ্যে এই স্বেচ্ছামৃত্যুর আইন পাস হয়েছে। এখন দেখার, উচ্চকক্ষে এই বিল কত দ্রুত পাস হয় এবং ব্রিটেনের সমাজ-মানসিকতায় এটি কী প্রভাব ফেলে।