বাংলাদেশ
ইদের পরেই শুরু শেখ হাসিনার বিচার, চার্জশিটে উঠে এল ‘গণভবনে কবর দেওয়ার’ প্রস্তাব
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে ঈদ-উল-আজহার (Eid al-Adha) পরপরই শুরু হতে চলেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া চার্জশিটের (chargesheet) ভিত্তিতে শুরু হবে চার্জ গঠনের শুনানি।
সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা দুই সপ্তাহ আগে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যাতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হওয়া দুটি বিশেষ বৈঠকের বিশদ বিবরণ রয়েছে। সেখানে এক চাঞ্চল্যকর মুহূর্তে হাসিনা সেনাবাহিনীর আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “তাহলে আমাকেই গুলি করে গণভবনে কবর দাও (Shoot me, bury me in Ganabhaban)।”
চার্জশিটের দাবি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী (Shirin Sharmin Chowdhury) পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে, যাকে তিনি অত্যন্ত স্নেহ করেন। তবে তাঁর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা—ওবায়দুল কাদের (Obaidul Quader), আসাদুজ্জামান খান (Asaduzzaman Khan), আনিসুল হক (Anisul Haque) এবং উপদেষ্টা সলমন এফ রহমান (Salman F Rahman)—তাঁকে পদত্যাগ না করতে বলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘৫টার ঘন্টা বাজলেই বিস্ফোরণ?’—ইমেলে সময় ধরে হুমকি, ফের তোলপাড় স্বাস্থ্যভবন
সেই রাতের বৈঠকে সেনাবাহিনীর তিন শীর্ষকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজধানীমুখী বিশাল মিছিল থামানো দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ বাহিনীও ধীরে ধীরে ব্যর্থ হচ্ছে বলে সতর্ক করেন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন (IGP Chowdhury Abdullah Al-Mamun)। তিনি জানান, “১৭ জুলাই থেকে রাস্তায় লড়াই চলছে, গোলাবারুদ শেষ হয়ে আসছে, বাহিনী ক্লান্ত।”
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমেদ সিদ্দিক (Maj Gen (Retd.) Tariq Ahmed Siddique) তখন বলেন, “হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছুঁড়লে আন্দোলনকারীরা পালাবে।” এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিমানবাহিনীর প্রধান। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “এই উপদেষ্টা আপনাকে ডুবিয়েছে, আরও ডুবাবে।”
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য উঠে এসেছে চার্জশিটে—শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা (Sheikh Rehana) কান্নাকাটি করে তাঁর পদত্যাগ করার অনুরোধ জানালেও, তিনি রাজি হননি। অবশেষে বিদেশ থেকে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় (Sajeeb Wazed Joy)-এর ফোনেই কিছুটা নরম হন তিনি।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট রাতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শেখ হাসিনা পরদিন পদত্যাগ করবেন। ৫ আগস্ট সকালে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় পিতার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যেতে চান। তবে নিরাপত্তার কারণে তাঁকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, সেখানে গেলে হাসিনা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন, এই আশঙ্কাও ছিল।
তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সময়ের অভাবে তা আর সম্ভব হয়নি।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম (Chief Prosecutor Tazul Islam) জানিয়েছেন, চার্জশিটের ভিত্তিতে বিচার শুরু হবে ঈদের পরই। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
