বাংলাদেশ
দেশে না থেকেও বিচারের মুখে শেখ হাসিনা, অভিযোগ হিংসা ছড়ানোর
ডিজিটাল ডেস্ক: মানবতা-বিরোধী অপরাধে (Crimes Against Humanity) জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina, ex PM of Bangladesh) বিরুদ্ধে নতুন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal) শেখ হাসিনাকে আগামী ৩ জুন হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ে সরকারকে আগে থেকেই জানানো হয় এবং সেই অনুযায়ী ‘যুগান্তর’ ও ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগ, একটি অনলাইন ভাষণে আওয়ামী লিগ নেত্রী এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা থেকে হিংসা ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই ভাষণের একটি অংশে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাহলে কি ২২৭টি খুন করার অধিকার পেয়ে গিয়েছি?” এই বক্তব্যের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করে অন্তর্বর্তী সরকার।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বাসঘাতকতা বাহিনীর অন্দরে! পাক গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ সিআরপিএফ জওয়ানের
যদিও হাসিনার দাবি ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে যে ২২৭টি খুনের মামলা হয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ তুলে ধরে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে নির্ধারিত দিনে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারবেন না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে অনুপস্থিতিতেই বিচারের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে কিনা, তা নিয়ে আইনি মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনার সমর্থকরা এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ‘আইনের শাসন’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবেই এই পদক্ষেপকে তুলে ধরছে।
