হামলা
পাকিস্তানকে ফের ধাক্কা, ১০ পাক সেনার মৃত্যু অপারেশন সিঁদুরের পরে
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার ঠিক ১৫ দিনের মাথায় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ভারতীয় সেনার (Indian Army) ভয়াবহ প্রত্যাঘাত—‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)। রাতের আকাশ চিরে গর্জে উঠল রাফাল যুদ্ধবিমান (Rafale Fighter Jet)। লক্ষ্য একটাই—সন্ত্রাসের উৎসস্থল। মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি।
পাকিস্তান (Pakistan) এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) ভারতীয় সেনার (Indian Army) আকাশপথে পরিচালিত ‘এয়ারস্ট্রাইক’-এর (Airstrike) পর থেকে সীমান্তে (LoC) পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সেনার পাল্টা প্রতিরোধে ১০ পাক সেনা (Pak Soldiers) নিহত হয়েছে।
এই হামলার পটভূমি ছিল পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলা, যেখানে ভারতীয় সেনার ১২ জন সৈন্য (Indian Soldiers) প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই হামলার বদলা নিতে ভারতীয় সেনা নির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটিতে এয়ারস্ট্রাইক (Airstrike) চালায়, যার ফলে পাকিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ (Shelling) শুরু হয়। তবে ভারতীয় সেনা এই হামলার কড়া জবাব দিয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় (LoC) পাকিস্তান প্রথমে গুলি-মর্টার হামলা চালালেও ভারতীয় সেনা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যার ফলে ১০ পাক সেনা নিহত এবং একাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
একই সময়ে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের উপর আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছে, তবে ভারতীয় সেনা তা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের এই প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের ফলে পাকিস্তানের উস্কানিমূলক হামলা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যে ভারতীয় সেনাদের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে মন্দিরে পুজা দিলেন BJP কর্মকর্তারা
এরপর, পাকিস্তান ও ভারতীয় সেনার মধ্যে সংঘাতের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে ভারতের সরকার ও সেনাবাহিনী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, এই ধরনের জঙ্গি কার্যক্রম ও সীমান্ত উত্তেজনা কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
এদিকে, ভারতীয় জনগণের মধ্যে এই হামলার পর উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেনাদের প্রতি সমর্থন আরও দৃঢ় হয়েছে। গোটা দেশই এই অভিযানের সফলতা নিয়ে গর্বিত এবং একে ভারতের শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) স্থগিত করে দিয়েছেন তাঁর নির্ধারিত ইউরোপ সফর। ক্রোয়েশিয়া (Croatia), নরওয়ে (Norway) ও নেদারল্যান্ডস (Netherlands)-এ মে মাসে তাঁর যে কূটনৈতিক সফর নির্ধারিত ছিল, তা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে কেন্দ্র সরকার এখন একমাত্র লক্ষ্যেই মনোনিবেশ করতে চাইছে—সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা।
ভারতের প্রত্যাঘাতের পরই পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় বেসামরিক ভারতীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। মর্টার ও গুলির বর্ষণে ইতিমধ্যেই সীমান্তের বেশ কয়েকটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রতিটি হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা কড়াকড়ি করা হয়েছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের পরে গোটা দেশে এখন চরম উত্তেজনা ও গর্বের আবহ। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই ভারতীয় সেনার এই সফল অভিযানের প্রশংসা করছেন। দেশের প্রতিরক্ষা দপ্তরও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এই অভিযান নিছক কোনও প্রতিক্রিয়া নয়, এটি একটি কৌশলগত প্রত্যাঘাত—যা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও চলবে।
