স্বাস্থ্য
বিপজ্জনক বাড়ি, বেআইনি নির্মাণ—খোদ মমতার হুঁশিয়ারি: “জীবন আগে, ভোট পরে”
ডিজিটাল ডেস্কঃ দিঘা সফর সেরে ফেরার পরদিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপে স্পষ্ট, মেছুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় সরকার আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রাচীন একটি হোটেল ঘেঁষা এলাকায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “একাধিক প্রাণ অকালে ঝরে গেছে শুধুমাত্র গাফিলতির জন্য। এই মৃত্যু এড়ানো যেত।”
তিনি জানান, আগুনের দমকে ৯০ জনকে নিরাপদে সরানো সম্ভব হলেও, নির্মাণ ও অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার ভয়াবহ অব্যবস্থাই প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একাধিকবার তদারকি এবং রাতভর পরিস্থিতি নজরদারির কথাও জানান তিনি।
https://www.facebook.com/share/v/1KxjGiZSmR/
মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই বাড়ি ১৯৮৯ সালের। রক্ষণাবেক্ষণের বালাই নেই, ফায়ার লাইসেন্স নেই, অথচ মানুষ বসবাস করছে। এ বার কড়া হাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। শহরে আর কোনও অব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।” ঘটনার উৎস হিসেবে দোকানঘরের ভেতরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক মজুদের বিষয়টিও চিহ্নিত করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত দাহ্য পদার্থ জমিয়ে রাখা আরেকটি বিস্ফোরণ ডেকে আনতে পারে।”
আরও পড়ুনঃ বড়বাজারে অগ্নিকান্ডে ১৪ জনের মৃত্যু! গ্রেফতার হোটেল মালিক ও ম্যানেজার
কলকাতা পুরসভাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে তিনি জানান, একটি বিশেষ কমিটি তৈরি হচ্ছে, যারা এই ধরনের বিপজ্জনক স্থাপনাগুলি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে কিছু দিনের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে সংস্কার করার দিকেও নজর দিতে বলেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ছিল সাফ, “জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। রাজনীতি নয়, এখন দরকার সচেতনতা আর দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “বাড়ি ছাড়ার করার কথা বলছি না, তবে বিপদের মুখে বসে থাকাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।” এরপর হঠাৎ করেই তিনি পৌঁছে যান পার্ক স্ট্রিটের একটি বহুতলে। সেখানেও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ এবং ছাদে বেআইনি রেস্তোরাঁ চালানোর অভিযোগে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, অবিলম্বে নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
শেষমেশ, তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, “১৫ দিনের সময় দিচ্ছি, এর মধ্যে কেউ না শুনলে সরকার নিজেই ব্যবস্থা নেবে।”
