দুর্ঘটনা
‘জঙ্গি প্রশ্রয় দিচ্ছে ঢাকা’, পহেলগাঁও হামলার পর বাংলাদেশ নিয়ে নড়েচড়ে বসছে ভারত
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পর ভারতের তরফে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া প্রতিক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। বাতিল হয়েছে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা, বন্ধ হয়েছে আটারি সীমান্ত, স্থগিত রাখা হয়েছে সিন্ধু নদীজল ভাগাভাগির চুক্তি। কিন্তু এখানেই থেমে থাকছে না প্রতিক্রিয়া। এবার উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক মহল সরব হয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে নিয়েও।
তাঁদের অভিযোগ, ঢাকাও ক্রমে ভারতবিরোধী মেরুতে চলে যাচ্ছে, আর পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে যেভাবে, তাতে উদ্বেগ বেড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করে বলেছেন, “বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন কার্যত এক পথের পথিক। দিল্লির উচিত, বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।” তাঁর মতে, দিল্লি ইতিমধ্যেই বিষয়টি বিবেচনা করছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হবে সময় বুঝে।
আরও পড়ুনঃ চাণক্য নীতির পথে ভারত! কাবুলে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের দূত
এই আবহে বিজেপির আরও কয়েকজন সাংসদও মুখ খুলেছেন। ঝাড়খণ্ডের সাংসদ নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মৌলবাদীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, জামাত-ই-ইসলামির মতো সংগঠন এবং লস্করের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলছে ঢাকার প্রশাসনিক কাঠামো। জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছে ভারত-বিরোধী জঙ্গিরা। তাঁর কটাক্ষ, “আর কতদিন দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পুষবে ভারত?”
তিনি আরও বলেন, ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মানুষ তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের জল বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চান না। তাই পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশের সঙ্গে সমস্ত জলবণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলেছে। ভারতের প্রতি যে সদ্ভাব হাসিনা বজায় রেখেছিলেন, তা এখন আর দৃশ্যমান নয়। পরিবর্তে, ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, আর তাতেই নতুন করে সতর্ক হচ্ছে নয়াদিল্লি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী ভাবনার উত্থান শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংগঠনিক দিক থেকেও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির নেতারা কড়া প্রতিক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করছেন।
বর্তমানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন্দ্র এখনও অপেক্ষার নীতিতেই চলছে। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধেই একযোগে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে ভারত—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে দিল্লির বর্তমান অবস্থান।
