হামলা
কাশ্মীরে পর্যটনে জঙ্গি ছায়া, বন্ধ ৪৮ কেন্দ্র, মোতায়েন বিশেষ বাহিনী
ডিজিটাল ডেস্কঃ কাশ্মীর উপত্যকায় ফের জঙ্গি হানার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। পহলগাম হত্যাকাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তরফে একাধিক হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ৮৭টি পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি। পর্যটন মরসুমের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন বলে মনে করছেন অনেকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে একটানা গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে পাকিস্তান সেনা। তাতে বোঝা যাচ্ছে, সীমান্তে গোলার শব্দের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বড়সড় অনুপ্রবেশের ছক। আইএসআই-এর মদতে আফগান ঘরানার আত্মঘাতী জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হামলার ছক কষছে লস্কর ও জইশ-এর মতো জঙ্গি সংগঠন।
আরও পড়ুনঃ ‘জঙ্গি প্রশ্রয় দিচ্ছে ঢাকা’, পহেলগাঁও হামলার পর বাংলাদেশ নিয়ে নড়েচড়ে বসছে ভারত
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার মূল নিশানায় থাকবেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, হিন্দু পণ্ডিত, অ-কাশ্মীরি শ্রমিক ও সরকারি কর্মীরা। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে একাধিক ‘হাই ভ্যালু’ পর্যটন গন্তব্য আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের সদস্যদের বেছে এনে সোনমার্গ, গুলমার্গ ও ডাল লেকের আশেপাশে মোতায়েন করা হয়েছে।
পর্যটনের দিক থেকে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়। প্রতি বছর এই সময়টাতেই হাজার হাজার পর্যটক উপত্যকার পথে পা রাখেন। তবে পহলগামের হামলার পর ২২ এপ্রিল থেকে কাশ্মীর কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। হোটেল, হোমস্টে ও রিসর্টগুলিতে একের পর এক বুকিং বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, আইএসআই-এর নজর রয়েছে রেল পরিষেবা ও পরিকাঠামোর দিকেও। কাশ্মীরে রেল নির্মাণে নিয়োজিত অ-কাশ্মীরিদের টার্গেট করতে পারে জঙ্গিরা। সূত্র বলছে, কাশ্মীর উপত্যকার শান্তি ফের উলটপালট করতে মরিয়া পাকিস্তানের মদতপুষ্ট শক্তিগুলি।
