খুন
মায়ের হাতে সন্তানের মৃত্যু, বাড়ির ট্যাঙ্কে মিলল শিশুর দেহ
ডিজিটাল ডেস্কঃ গুজরাতের আমদাবাদে ঘটে গেল হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। মাত্র তিন মাস বয়সি নিজের সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছরের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। শিশুটির দেহ উদ্ধার হয়েছে বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড জলের ট্যাঙ্ক থেকে। অভিযোগ, সন্তান অতিরিক্ত কান্নাকাটি করছিল বলে বিরক্ত হয়েই এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেন মা করিশ্মা বাঘেল।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, করিশ্মা দাবি করেন, তাঁর তিন মাসের ছেলে নিখোঁজ। এরপর স্বামী দিলীপ বাঘেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। খোঁজাখুঁজির পরে, সোমবার তাদের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড জলাধার থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে ধীরে ধীরে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, শিশুকে নিজেই ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছিলেন করিশ্মা। সেই সূত্রেই তাঁকে সোমবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুনঃকার্ড ছাপা, কেনাকাটা শেষ—এর মধ্যেই হবু বরকে নিয়ে পালালেন কনের মা
তদন্তকারীদের দাবি, করিশ্মা অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সন্তান জন্মের পরে তাঁর সেই অবস্থা আরও জটিল হয়। প্রায়ই তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করতেন, শিশুর কান্না সহ্য করতে পারছেন না, বিরক্ত বোধ করছেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, করিশ্মা হয়তো ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’-এ ভুগছিলেন। সন্তান জন্মের পর অনেক মা-ই এই মানসিক সমস্যায় পড়েন। এই সময়ে প্রয়োজন হয় পরিবার ও চিকিৎসকের সহায়তা। তবে সেই সহায়তা না পেয়ে করিশ্মার অবস্থা বিপজ্জনক দিকে মোড় নেয়, এমনটাই অনুমান তদন্তকারীদের।
তদন্তকারী এক অফিসার জানান, “করিশ্মার বক্তব্যে বারবার অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কখনও বলেন বাথরুমে ছিলেন, ফিরে এসে দেখেন বাচ্চা নিখোঁজ। আবার কখনও বলেন অন্য কিছু। সন্দেহের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।” পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাঙ্কটি এমনভাবে নির্মিত যে, কোনও শিশুর পক্ষে নিজের থেকেই সেখানে পড়ে যাওয়া অসম্ভব। করিশ্মার বিরুদ্ধেই তাই অভিযোগ নিশ্চিত হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— নতুন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজ কি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়?
