আদালতে ‘আইনি সন্ত্রাস’? প্রতিবাদে সরব সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের আইনজীবীরা
Connect with us

কলকাতা

আদালতে ‘আইনি সন্ত্রাস’? প্রতিবাদে সরব সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের আইনজীবীরা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে কল্যাণী আদালত চত্বর কার্যত সন্ত্রাসের কবলে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন একাংশ আইনজীবী। তাঁদের দাবি, আদালতের মধ্যেই চলছে একপ্রকার ‘গোষ্ঠী দখলদারি’। ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে, কে কার সঙ্গে কথা বলবেন, কার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যাবে না, আর সেই ‘ফতোয়া’ না মানলেই জুটছে বহিষ্কারের হুমকি। এই পরিস্থিতিতে কল্যাণী আদালতের কর্মসংস্কৃতি ভেঙে পড়েছে বলেই দাবি তাঁদের। বিশেষত পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইনজীবীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে সরাসরি।

এই পরিস্থিতিতে এবার হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কল্যাণীর আইনজীবী সুকুমার গোস্বামী দায়ের করা এক মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জেলা বিচারককে নির্দেশ দিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট পেশ করতে। সেই নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার কল্যাণী আদালত পরিদর্শনে আসেন জেলা বিচারক শুভঙ্কর সেন। কথা বলেন মামলাকারী পক্ষ ও অভিযুক্ত আইনজীবীদের সঙ্গে।

আরও পড়ুনঃ ধুন্ধুমার মালদায়! জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও বিজেপির

জেলা বিচারকের কাছে ২০ জন আইনজীবী লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তাঁরা জানান, আদালতের পরিবেশ অত্যন্ত ভয়ের। কাজ করার উপযুক্ত পরিস্থিতি নেই। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক আইনজীবী নিয়মিত নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। চিঠিতে এই আতঙ্ক দূর করা ও আক্রান্ত আইনজীবীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

Advertisement
ads

বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মুকুল বিশ্বাস বলেন, “২০১২ সালে দু’জন মহিলা আইনজীবীকে বারের ঘরে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করা হয়। সেই থেকে এই সন্ত্রাস চলছেই। আজও বিচারকের এজলাস বয়কট থেকে শুরু করে নিরীহ আইনজীবীদের হেনস্থা চলছে প্রকাশ্যে।” তাঁর আরও অভিযোগ, “এই পরিবেশ তৈরিতে জেলা বিচারক নিজেই পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিচ্ছেন। প্রধান বিচারপতির কাছেও তাঁর নামে অভিযোগ জানানো হয়েছে।”

বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা, ‘এই সন্ত্রাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। যারা অন্যায় করছে এবং যারা সেই অন্যায়কে আড়াল করছে, কাউকে রেয়াত করা হবে না।’ আইনচর্চার মঞ্চেই যদি আইনের শাসন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে আশ্রয় কোথায়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আইন মহলে।

Continue Reading
Advertisement