জেলার খবর
ধুন্ধুমার মালদায়! জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও বিজেপির
নিউজ ডেস্ক : মোথাবাড়ির ঘটনার পাশাপাশি জেলাজুড়ে বেহাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভিযোগ এনে জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হল বিজেপির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার ঘটনাকে ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে।
এদিন জেলা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ মিছিল শহর পরিক্রমা করে। তার সঙ্গে ছিলেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক শ্রীরুপা মিত্র চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশী প্রহরার পাশাপাশি দেওয়া হয় ব্যারিকেডও। যদিও প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশে প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে দেয় বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, আজ মালদার মোথাবাড়িতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে শুক্রবার মোথাবাড়িতে শুভেন্দু। সেখানে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। মোথাবাড়িতে গিয়ে এনআইএ-সিবিআই তদন্তের দাবি জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পাশাপাশি তিনি বলেছেন, মোথাবাড়িতে পুরোপুরি শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব বিরোধী দলনেতার। এদিন হাইকোর্টের অনুমতি সাপেক্ষে মোথাবাড়িতে এসে আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরিবার গুলিকে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মালদার মোথাবাড়ি থানার অন্তর্গত ৪টি জায়গায় যেতে পারবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে মোথাবাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে।
আরও পড়ুন – মোথাবাড়িতে শুভেন্দু! বললেন শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব বিরোধী দলনেতার
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী মোথাবাড়ি গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে বিরোধী দলনেতা মানতে হবে কিছু শর্ত। শর্তসাপেক্ষে মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীকে মোথাবাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারীকে এলাকা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হলেও বিরোধী দলনেতাকে একাধিক শর্ত মেনে চলতে হবে।
বিচারপতি ঘোষ আরও জানিয়েছেন, এসপি মালদা পুরো পরিস্থিতি তদারকি করবেন। মালদার মোথাবাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কোনো সভা বা মিছিল করা যাবেনা বলে জানিয়েছে আদালত। আগামী ১৭ই এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন রাজ্যকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদার মোথাবাড়ি। এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এরপর এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে মালদার মোথাবাড়ি গেলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন – শুধু ভোটের সময় দেখা যায়! শ্রীরূপার বিরুদ্ধে পোস্টার-আন্দোলন
