ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি বিতর্কের নিষ্পত্তি এবার কালেক্টরের হাতে? প্রশ্ন বিরোধীদের
Connect with us

দেশের খবর

ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি বিতর্কের নিষ্পত্তি এবার কালেক্টরের হাতে? প্রশ্ন বিরোধীদের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ, বুধবার, লোকসভায় পেশ করা হবে ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৪। বিলটি পেশের পর আলোচনার জন্য ৮ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। বিজেপি চাইছে বিলটি আজই লোকসভায় পাশ হোক, তাই দলীয় সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিন লাইনের হুইপ জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করা হবে।

বিরোধীরাও বিলের বিরোধিতায় প্রস্তুত। কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ প্রায় সবকটি বিরোধী দল তাদের সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হুইপ জারি করেছে। শাসক এবং বিরোধী পক্ষের অবস্থান থেকে স্পষ্ট, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ফলে আজকের আলোচনা উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সংখ্যার লড়াই

বিলটি লোকসভায় পাশ করাতে ২৭২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ২৪০, জেডিইউ-এর ১২, টিডিপির ১৬। এ ছাড়া চিরাগ পাসওয়ানের দলের ৫ জন ও শিণ্ডে সেনার ৭ জন সাংসদ রয়েছেন। শরিকদের সমর্থন নিশ্চিত হলে বিল পাশ করাতে বিশেষ বাধা থাকার কথা নয়। তবে বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে এর বিরোধিতা করছে, ফলে বিতর্ক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

Advertisement
ads

আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ বিস্ফোরণ পাথরপ্রতিমায়! মৃত, ৮ NIA তদন্তের দাবি দিলীপ-সুকান্তর

বিলের পটভূমি ও পরিবর্তন

ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৪ প্রথমবার ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল। পরে জগদম্বীকা পালের নেতৃত্বে যৌথ সংসদীয় কমিটি বিলটি পর্যালোচনা করে। ৩১ জানুয়ারি কমিটি স্পিকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেয় এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি উভয় সদনে তা পেশ করা হয়।

বিলের মূল প্রস্তাবিত পরিবর্তন: 

Advertisement
ads
  • ওয়াক্‌ফ বোর্ডের গঠন – বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে অমুসলিমদের নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সরকারগুলিকে কমপক্ষে দু’জন অমুসলিম সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
  • সম্পত্তি বিরোধ নিষ্পত্তি – আগে ওয়াক্‌ফ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে থাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন জেলা কালেক্টরের হাতে দেওয়া হয়েছে।
  • “ব্যবহার দ্বারা ওয়াক্‌ফ” ধারণা বিলোপ – নির্দিষ্ট কোনও সম্পত্তিকে ওয়াক্‌ফ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পুরনো পদ্ধতি বাতিল করা হচ্ছে।
  • কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে নিবন্ধন – আইনের কার্যকর হওয়ার ছ’মাসের মধ্যে প্রতিটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তিকে কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে নথিভুক্ত করতে হবে।

বিরোধিতা ও সরকারের অবস্থানঃ

বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, বিশেষ করে AIMPLB (অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড) সংসদ সদস্যদের বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাঁদের মতে, এটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করবেতবে সরকারের দাবি, ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই বিল আনা হয়েছে এবং পুরনো আইনের ত্রুটিগুলি দূর করাই মূল লক্ষ্যআজকের বিতর্কের পরই বোঝা যাবে, সংখ্যার খেলায় শেষ পর্যন্ত এই বিল পাস হবে নাকি আরও বিতর্কের মুখে পড়বে