স্বাস্থ্য
ইসরায়েলির হামলার আর প্রয়োজন নেই! রক্ত, জলের অভাবেই মরতে বসেছে গাজা
ডিজিটাল ডেস্কঃ গাজা উপত্যকা মুছে যেতে বসেছে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে। ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ, বিদ্যুৎ ও জলের অভাব, খাদ্য, রক্ত ও ওষুধের হাহাকার—সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের জীবন আজ যেন দুনিয়ার বুকে এক নরক। এই অবস্থায় রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলজারিক গাজায় চলমান মানবিক সংকটকে ‘নরকতুল্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রেড ক্রসের সদর দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্পোলজারিক বলেন, “আমরা এখন এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছি, যেখানে মানুষের খাবার, জল, বিদ্যুৎ—কোনো কিছুই নেই।” তিনি সতর্ক করে জানান, গাজায় রেড ক্রস পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতাল মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই রসদের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইসরায়েল ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মানবিক সহায়তা সেখানে প্রবেশ করেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে কেবল ২২টি কোনওরকমে কার্যকর রয়েছে। দ্রুত ফুরিয়ে আসছে অ্যান্টিবায়োটিক ও রক্তের ব্যাগের মজুত।
আরও পড়ুনঃশান্তিচুক্তির অঙ্গীকারের মাঝেই গাজায় হামলা! ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি কি শুধুই কাগজে?
গত মাসে দক্ষিণ গাজায় ১৫ জন ত্রাণকর্মীর মরদেহ একটি গণকবরে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে ৮ জন ছিলেন ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘ ও রেড ক্রিসেন্ট এই ঘটনার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে দায়ী করে। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ‘হুমকি হয়ে উঠতে পারে’ এমন আশঙ্কায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
স্পোলজারিক আরও বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জনগণের চলাচল যেমন বিপজ্জনক, আমাদের মতো সাহায্য সংস্থার কাজ করাটাও তেমনি রীতিমতো জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ।” তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ডাক দেন এবং হামাসের হাতে বন্দী থাকা জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বোমা হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো—স্কুল, হাসপাতাল, আবাসন সবই আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
