ভাইরাল খবর
পরিচয় প্রমাণেও মিলল না মুক্তি, ওড়িশায় বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিক আটক ঘিরে উত্তেজনা
ডিজিটাল ডেস্কঃ শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক! এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল ওড়িশা পুলিশের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের চর সুজাপুর গ্রামের ১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক বর্তমানে ওড়িশার বিজয়নগর ও ঝাড়সুগদা থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনায় গোটা গ্রামে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা কখনও পঞ্চায়েত, কখনও বিধায়কের কাছে ছুটছেন প্রিয়জনকে মুক্ত করার আশায়। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বহুজন। গ্রাম থেকে প্রতিবছর প্রায় ২৫০ জন শ্রমিক ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করতে যান। আটক শ্রমিকদের কেউ scrap metal collection করেন, কেউ construction labourer হিসেবে কাজ করেন দীর্ঘদিন ধরে।
অভিযোগ, আধার কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র দেখিয়েও তাদের ছাড়া হয়নি। ওড়িশা পুলিশের যুক্তি, তাদের কাছে birth certificate নেই, তাই পরিচয় সন্দেহজনক! প্রশ্ন উঠছে— বাংলা ভাষায় কথা বললেই কি সন্দেহভাজন হয়ে যেতে হবে?
আরও পড়ুনঃ ভরসন্ধ্যায় ভাঙড়ে তৃণমূল নেতার রক্তাক্ত খুন, অভিযোগের তির ISF-এর দিকে
মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় (Parthapratim Chattopadhyay) বলেছেন, “এটা অত্যন্ত অপমানজনক। ভাষার ভিত্তিতে নাগরিকদের হেনস্তা মেনে নেওয়া যায় না।”
কেতুগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও শাশ্বতী দাস (Saswati Das) জানিয়েছেন, সমস্ত কাগজপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং নজরদারি রাখা হচ্ছে।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে মামলা ওঠে। আদালত রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, ওড়িশা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে জানাতে হবে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের কথায়, “Aadhaar-voter card doesn’t count anymore, they now want birth certificate – যেটা অনেকের কাছেই নেই। আর নয়, এবার ফিরে এসেছি, বাঁচতে চাই।”
এই ঘটনা ভাষা ও পরিচয়ের নামে বিভাজনের প্রশ্নই তুলে দিচ্ছে।
