দেশের খবর
পাকিস্তানি প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, ভারতে নিষিদ্ধ একাধিক ইউটিউব চ্যানেল
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত সরকার। এবার ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল — ভারতে ব্লক করা হল পাকিস্তানের একাধিক ইউটিউব চ্যানেল। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশে, দেশের মধ্যে আর দেখা যাবে না সামা টিভি, এআরওয়াই নিউজ, বোল নিউজ, রাফতার, জিও নিউজ এবং সুনো নিউজের মতো জনপ্রিয় পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেল।
শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিক — ইরশাদ ভাট্টি, আজমা শিরাজি, উমার চিমা এবং মুনিব ফারুকির ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলও নিষিদ্ধের তালিকায় জায়গা পেয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পহেলগাম হামলার পর ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শান্তির বৈঠকে রক্তঝরা বিস্ফোরণ টিটিপি-র বদলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের ওয়ানা
গত মঙ্গলবার, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ মানুষ। এরপরই ভারত কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। পাকিস্তানের নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়, পাশাপাশি স্থগিত রাখা হয় দীর্ঘদিনের সিন্ধু জলচুক্তি। পাকিস্তানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘সিন্ধুর জলে না হলে, রক্ত বইবে।’ এমনকি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রবিবার ‘মন কি বাত‘-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “পহেলগামের ঘটনা প্রতিটি ভারতীয়ের হৃদয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে। জঙ্গি হামলার যথোপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, “কাশ্মীরে যখন শান্তি প্রতিষ্ঠা পাচ্ছিল, তখন শত্রু শক্তি আবার সেই পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে।”
এদিকে, পহেলগাম হামলার আঁচ লেগেছে বিনোদন দুনিয়াতেও। পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খানের ‘আবির গুলাল’ সিনেমার মুক্তি ভারতে বাতিল করা হয়েছে। এমনকি সিনেমার গানগুলোও ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পাল্টাঘাত ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।
