অপারেশন সিঁদুর
বিশ্বাসঘাতকতা বাহিনীর অন্দরে! পাক গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ সিআরপিএফ জওয়ানের
ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তায় বড়সড় ফাঁস! এবার পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠল এক সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানের বিরুদ্ধে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র দাবি, অভিযুক্ত জওয়ান গত দুই বছর ধরে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য চুপিসারে পাচার করে আসছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। সোমবার দিল্লি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ।
জানা গিয়েছে, ধৃত সিআরপিএফ জওয়ানের নাম মোতি রাম জাট (Moti Ram Jat)। ২০২৩ সাল থেকে সে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেনা সংক্রান্ত নানা গোপন তথ্য তাদের হাতে তুলে দিচ্ছিল। এর বিনিময়ে সে আর্থিক সুবিধাও পেত বলে তদন্তকারীদের দাবি। এনআইএ জানিয়েছে, তাকে সোমবার গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে পাটিয়ালা হাউস কোর্টের (Patiala House Court) বিশেষ বিচারক ৬ জুন পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের অস্থিরতার নেপথ্যে ভারত? বিস্ফোরক অভিযোগ মহম্মদ ইউনুসের
সূত্রের খবর, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) পর পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ একাধিক সন্দেহভাজন চক্রের সন্ধান পায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সেই তালিকাতেই ছিল ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার (Jyoti Malhotra) নাম, যাকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়। জ্যোতির জেরায় উঠে আসে মোতি রামের নামও। তার পর থেকেই তাকে নজরে রাখে তদন্তকারীরা।
শুধু মোতি রাম নন, গোটা দেশজুড়ে আরও একাধিক পেশার মানুষকে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, ব্যবসায়ী— কাউকেই রেহাই দেয়নি পাক গোয়েন্দারা। তবে সিআরপিএফ-এর মতো এক স্পর্শকাতর বাহিনীর সদস্যের এহেন বিশ্বাসঘাতকতা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে— যে বাহিনীর উপর দেশের সুরক্ষার দায়িত্ব, সেখানেই যদি শত্রুপক্ষের দালাল ঢুকে পড়ে, তবে কি সত্যিই নিরাপদ রয়েছে ভারত?
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেফাজতে নিয়ে মোতি রামকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তৎপর তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দেশের নিরাপত্তা মহল।
