হামলা
পহেলগাঁও হামলার ছায়া বাংলায়? বসিরহাটে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র, ধৃত দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী
ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশজুড়ে যখন সন্ত্রাসদমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির কড়া নজর, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। সোমবার গভীর রাতে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) গ্রেফতার করেছে দুই অস্ত্র পাচারকারীকে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও ২৫২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ—যা সম্প্রতি বাংলার সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগকে নতুন মাত্রা দিল।
ধৃতদের নাম দীপ্তজিৎ সেন (২৯) ও কাজল মুখোপাধ্যায় (৪০)। দু’জনেই বসিরহাট মহকুমার বাসিন্দা। এসটিএফ সূত্রে খবর, প্রথমে দীপ্তজিতের সিশোনা দাসপাড়ার বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার হয়। পরে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধরা হয় কাজলকে, যার বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র।
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর হামলায় জড়িত পাক কমান্ডো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রাথমিক জেরায় দুই অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত অঞ্চলে বেআইনি অস্ত্রের কারবার চালাচ্ছে এবং ঘর থেকেই এই চক্র পরিচালনা করে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই অস্ত্রচক্রের সঙ্গে বৃহত্তর কোনও জাল যুক্ত রয়েছে, যার শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত।
এত বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর প্রশাসনের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই অস্ত্র কারা কিনছিল, এর গন্তব্য কোথায়, এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এর পেছনে কি কোনও জঙ্গি যোগাযোগ রয়েছে? পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর যখন সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বসিরহাটে এমন অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলে।
STF সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই অস্ত্র চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল চালক, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের খোঁজ করা হচ্ছে। এদিনই দুই ধৃতকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করে STF হেফাজতের আবেদন জানায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, এই অস্ত্র কি শুধুই চোরাচালান চক্রের জন্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনও বড় ধরনের নাশকতার ছক?
