মোদি-স্টারমার ঐকমত্যে ইতিহাস, ভারতে ব্রিটিশ পণ্য প্রবেশের পথ আরও সহজ
Connect with us

সোশ্যাল মিডিয়া

মোদি-স্টারমার ঐকমত্যে ইতিহাস, ভারতে ব্রিটিশ পণ্য প্রবেশের পথ আরও সহজ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ নয়াদিল্লি ও লন্ডনের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) অবশেষে বাস্তব রূপ পেল। মঙ্গলবার দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উচ্চাভিলাষী চুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে। বেশিরভাগ পণ্য ও পরিষেবার উপর শুল্ক প্রত্যাহারের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক ‘ঐতিহাসিক মাইলস্টোন’ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।

এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমার বন্ধু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার (Keir Starmer)-এর সঙ্গে আলাপচারিতা খুবই আনন্দের। ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পারস্পরিক লাভজনক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং দ্বৈত অবদানের কনভেনশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করবে এবং দুই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে আশাবাদী দুই পক্ষই। নয় মাস ধরে স্থগিত থাকা আলোচনার পরে সম্প্রতি আলোচনার গতি ফের চাঙ্গা হয় এবং শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছয়।

প্রসঙ্গত, ভারত-যুক্তরাজ্যের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি, যখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বরিস জনসন (Boris Johnson)। এরপর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক (Rishi Sunak) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময়ও আলোচনা চলতে থাকে, কিন্তু তা কোনও চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। শেষপর্যন্ত স্টারমার সরকার এই আলোচনাকে সফল পরিসমাপ্তি দেয়। সরকারি সূত্রে খবর, চুক্তি স্বাক্ষরে যে বিলম্ব হয়েছিল, তার পেছনে মূলত বাণিজ্যিক, বিনিয়োগ সংক্রান্ত এবং সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক কিছু প্রযুক্তিগত ও আইনি জটিলতা কাজ করেছিল। তবে তা সুষ্ঠুভাবেই মেটানো সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির তাৎপর্যও বড়। সম্প্রতি পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার (Pahalgam Terror Attack) পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে দিল্লির সঙ্গে লন্ডনের এই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

Advertisement
ads

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ (United States) একাধিক দেশের সাথেও মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সম্প্রতি পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সময়সীমা আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেন।

এই প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি-লন্ডন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনীতির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তির সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, “আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে ভারতে স্বাগত জানানোর জন্য।”

প্রকাশ্যে আসা এই চুক্তিকে ঘিরে ইতিমধ্যে কর্পোরেট মহল ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিল এই ঐতিহাসিক চুক্তি।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement