হামলা
‘প্রার্থনা নয়, এবার যুদ্ধ’—অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সেনার সাংবাদিক বৈঠকে দিনকরের কবিতা, তুলসীদাসের উদ্ধৃতি
ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার দুপুরে যখন ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) ঘিরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন ভারতীয় সেনার শীর্ষকর্তারা, তার ঠিক আগেই জাতীয় নিরাপত্তা, শৌর্য এবং সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেল সেনা সদর দফতরের সেই ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশনে। বড় স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয় পাকিস্তানে সেনা অভিযানের সময়কার দুর্লভ ভিডিওচিত্র ও তথ্যচিত্র। সঙ্গে বেজে ওঠে হিন্দি সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি রামধারী সিং ‘দিনকর’ (Dinkar)-এর ‘রশ্মিরথী’ কাব্যের গম্ভীর লাইন— “প্রার্থনা নয়, এ বার যুদ্ধ / জীবন জয়, নয়তো মৃত্যু”।
এই আবেগঘন, অথচ দৃঢ় বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এসে বসেন তিন বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)। প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সাংবাদিক এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী (Air Marshal A.K. Bharati)-কে জিজ্ঞাসা করেন, রবিবার শিবস্তোত্র, সোমবার দিনকর—ভারতীয় সেনা কী ধরনের বার্তা দিতে চাইছে? প্রশ্ন শেষ হতেই দৃপ্ত কণ্ঠে এয়ার মার্শাল ভারতী বলতে শুরু করেন তুলসীদাসের ‘রামচরিতমানস’ (Ramcharitmanas)-এর সেই অমর চরণ—
“বিনতি শোনে না জলধি অসাড় / তিন দিন গেল এ রীতি,
সক্রোধে তখন বলেন রাম / ভয় ছাড়া হয় না প্রীতি।”
আরও পড়ুনঃ সীমান্তে স্থিতাবস্থার লক্ষ্যে ভারত-পাক ডিজিএমও বৈঠক, জল বিতর্কে অনড় ভারত
অর্থাৎ, বিনয়ের ভাষা যেখানে ব্যর্থ, সেখানে শক্তির ভাষা প্রয়োজন—এই বার্তাই যেন তাঁর ঠোঁটের ডগা থেকে গর্জে উঠল। তিনি ব্যাখ্যায় না গিয়ে শুধু বললেন, “সমঝদার কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যায়।” অর্থাৎ, বুদ্ধিমানরা ইঙ্গিতেই সব বুঝে নেন।
তারপর ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে শুরু হয় বিশদ বর্ণনা। দৃপ্ত কণ্ঠস্বর, নির্ভীক বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, নিখুঁত তথ্য ও ভিজ্যুয়াল সহযোগে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের বিবরণ তুলে ধরেন এয়ার মার্শাল ভারতী। শুধু একজন সেনা অফিসার নন, একজন সাংস্কৃতিক সচেতন দেশপ্রেমিক হিসেবেও তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর এই উপস্থাপনা ও শৌর্যের কাহিনি দেখে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই বলছেন—এই ভারতীয় সেনার মুখপাত্র যেন একাধারে ধ্যান, জ্ঞান, বাণী ও বলের প্রতীক।
এ যেন সামরিক কূটনীতির পাশাপাশি এক সাংস্কৃতিক বিজয়ও।
