দুর্ঘটনা
নেপালে Gen Z দের আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ কাঠমান্ডু, মৃত ১৮, আহত বহু
ডিজিটাল ডেস্কঃ সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধের (Social Media Ban) জেরে আগুন জ্বলছে নেপালে (Nepal)। রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম (Youth Protesters)। আর সেই আন্দোলন রুখতেই এবার কাঠমান্ডুর (Kathmandu) রাস্তায় সেনা নামাল ওলি সরকার। সেনার গুলিতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে সহস্রাধিক (Over a Thousand Injured)।
নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (K.P. Sharma Oli) সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ আগেই ছিল। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর এক নয়া সিদ্ধান্তে ফুঁসে উঠেছে গোটা দেশ।
ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা
নেপালের সরকার ফেসবুক (Facebook), ইউটিউব (YouTube), এক্স (X – formerly Twitter), ইনস্টাগ্রাম (Instagram), হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), রেডিট (Reddit), লিঙ্কডইন (LinkedIn), স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat)-সহ প্রায় ২৬টি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
সরকারের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি সরকারের সঙ্গে নথিবদ্ধ (Registration) হয়নি, তাই নজরদারি চালানো সম্ভব নয়। সাতদিন সময় দেওয়া হলেও কেউ নিয়ম মানেনি বলে দাবি প্রশাসনের।
‘জেন জি’ রাস্তায়, সংসদ ভবনেও প্রবেশ
নেপালের ‘জেনারেশন জেড (Gen Z)’ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি অভিব্যক্তির স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ (Violation of Freedom of Expression) বলেই দেখছে। হাজার হাজার যুবক-যুবতী রাস্তায় নামে। এমনকী কেউ কেউ ঢুকে পড়ে সংসদ ভবনের (Parliament) ভিতরেও।
পুলিশ লাঠিচার্জ (Lathicharge) করে বিক্ষোভকারীদের হটাতে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সেনা নামিয়ে জারি কারফিউ
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে কাঠমান্ডুতে জারি করা হয়েছে কারফিউ (Curfew)। মোতায়েন করা হয়েছে সেনা। সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে জলকামান (Water Cannons) ব্যবহার করা হয়। বিক্ষোভকারীদের উপর চালানো হয় গুলি (Firing)।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ১৮ জন প্রতিবাদী নিহত, সহস্রাধিক আহত। এখনও আন্দোলন জারি আছে।
টিকটক-টেলিগ্রাম চালু থাকলেও…
যদিও টিকটক (TikTok), টেলিগ্রাম (Telegram), ভাইবার, উইটক, নিমবুজ-এর মতো কিছু অ্যাপ নিষিদ্ধ হয়নি, কিন্তু মূলধারার অধিকাংশ সোশাল মিডিয়াই বন্ধ।
বিরোধীদের দাবি: নিছক প্রতিহিংসা
নেপালের বিরোধী দলগুলি (Opposition Parties) অভিযোগ করেছে, সরকার আসলে চায় না বিরোধীরা সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের মতামত বা আন্দোলনের বার্তা ছড়াক। একে তাঁরা বলছেন “মৌলিক অধিকার হরণ” (Suppression of Fundamental Rights)।
