হামলা
যুদ্ধ কি অনিবার্য? নাগরিক প্রস্তুতির জন্য দেশজুড়ে কেন্দ্রের নির্দেশে মহড়া
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত ভাগের পর প্রায় আট দশকের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারবার বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হয়েছে—উনিশশো সাতচল্লিশ-আটচল্লিশ, উনিশশো পঁইষট্টি, উনিশশো একাত্তর এবং উনিশশো নিরানব্বই সালে। প্রথম তিনটি ছিল পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ, যেখানে দু’দেশই সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রণক্ষেত্রে মুখোমুখি হয়েছিল।
তবে শেষেরটি, অর্থাৎ কারগিল সংঘর্ষকে অনেক সামরিক পর্যবেক্ষক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বলতে নারাজ। তাদের মতে, সেটি ছিল সীমিত পরিসরে সংঘটিত একটি সঙ্ঘাত, যা কেবলমাত্র কাশ্মীরের নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং জাতীয় স্তরে যুদ্ধ ঘোষিত হয়নি। তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর প্রথমবার কেন্দ্র সরকার (Central Government) দেশজুড়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিক মহড়ার (Civil Preparedness Drill) নির্দেশ দিয়েছে। আগামীকাল, বুধবার, দেশের প্রতিটি রাজ্যে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এত বছর পরে কেন এই পদক্ষেপ? যুদ্ধ কি সত্যিই আসন্ন?
আরও পড়ুনঃ “মুখ্যমন্ত্রী কি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবেন?” অধীরের প্রশ্নে উত্তাল মুর্শিদাবাদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) তরফে সোমবার সব রাজ্যকে পাঠানো নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, তার দিকনির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানা, বিডিও অফিস, সরকারি ভবনের ছাদে থাকা বহু পুরনো সাইরেনগুলো বহু বছর পর আবার সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান যদি ১৯৭১ সালের মতো আচমকা বিমান হামলা চালায়, তবে এই মহড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সচেতনতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি, ব্ল্যাকআউট (Blackout) বাস্তবায়ন, গাড়ির হেডলাইট আচ্ছাদন—সবই সেই প্রস্তুতির অংশ। ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবের (Punjab) ফিরোজপুরে একদফা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৭১-এর যুদ্ধের সময় নাগরিকদের সতর্ক করার জন্য আকাশবাণী (All India Radio) থেকে বারবার ঘোষণা হত। এবারও সেই রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুততর প্রচার ব্যবস্থা সক্রিয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সুরক্ষায় হোম গার্ড, সিভিল ডিফেন্স এবং এনসিসি (NCC)-র ভূমিকা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকার যুদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে দেশের প্রতিরক্ষা কৌশল ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যাচাই করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেশ (UN Secretary-General Antonio Guterres) ভারত ও পাকিস্তান—উভয়কেই যুদ্ধ এড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, “একবার যুদ্ধ শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।”
অনেকে মনে করছেন, এই মহড়া কেবল প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির অঙ্গ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বয়ে নিয়ে আসছে। বিজেপির (BJP) অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, দেশরক্ষার দায় কেবল সেনাবাহিনীর নয়—নাগরিকরাও প্রস্তুতি নিয়ে প্রয়োজনে সহযোদ্ধার ভূমিকা পালন করতে পারেন। গত বছর হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চিন্তন শিবিরে প্রধানমন্ত্রীও স্পর্শকাতর স্থাপনা রক্ষায় রাজ্য সরকারগুলিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, পাকিস্তান আগ্রাসনের পথই বেছে নিয়েছে। ১৯৪৭, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আগেই আক্রমণ শুরু করে। তাই এই মহড়ার পেছনে যুদ্ধ-সংক্রান্ত আগাম প্রস্তুতির বার্তা স্পষ্ট। তবে সরকার এখনই যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, দেশের সামরিক ও অসামরিক উভয় স্তরেই প্রস্তুতি যে জোরকদমে চলছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
