প্রতারণা
মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিন জনকে ফাঁসি দিল ইরান, ৭০০-র বেশি গ্রেপ্তার
ডিজিটাল ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহে বড় পদক্ষেপ ইরানের। ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের (Mossad) হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিন ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করল তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিজান নিউজ’ (Mizan News) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির পাশাপাশি অবৈধ পাচার এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগও ছিল।
জানা গেছে, সম্প্রতি ইরান-ইজরায়েল ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আমেরিকার প্রস্তাব মেনে বুধবার সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় ইরান। এর ঠিক পরদিনই এই তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) প্রশাসন এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
আরও পড়ুনঃ ‘তেরঙা কাঁধে নিয়ে চলেছি মহাকাশে’ — শুভাংশুর বার্তায় গর্বিত দেশ, ইতিহাস গড়ল Axiom-4 অভিযান
ইরানের দাবি, এই তিনজন শুধু গুপ্তচরই ছিলেন না, তাঁরা ইজরায়েলের পক্ষে দেশের অভ্যন্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারও করতেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা দেশ জুড়ে চলছে ধরপাকড়।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন ইরানে হামলা চালানোর পর ইজরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোসাদের পরিকল্পনাতেই এই অভিযানে তারা সফল হয়েছে। এরপরই স্পষ্ট হয়, ইরানের সেনাবাহিনীর মধ্যেও রয়েছে মোসাদের চর। সেই সূত্রেই তেহরান জুড়ে অভিযান শুরু করে ইরানি সেনা ও গোপন পুলিশ বাহিনী।
সূত্রের খবর, আপাতত ২৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে জেরা চালানো হচ্ছে। তাঁদের সবারই ইজরায়েলি সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাঁসি এবং গ্রেপ্তারি শুধুমাত্র আইন রক্ষা নয়, ইজরায়েল ও আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিতে চায় তেহরান। যদিও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি হামলা এখন কিছুটা স্তিমিত, সংঘাতের সম্ভাবনা এখনও একেবারে ফুরোয়নি বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।
