হামলা
সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ভারতের কড়া বার্তা, হস্তক্ষেপে রাজি নয় বিশ্বব্যাংক
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের (India) সিদ্ধান্তে কার্যত স্থগিত হয়ে যাওয়া সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে গভীর উদ্বেগে পাকিস্তান (Pakistan)। সীমান্ত উত্তেজনার আবহে নয়াদিল্লি যখন চুক্তি কার্যকর না রাখার পথে হাঁটছে, তখন ইসলামাবাদ (Islamabad) অভিযোগ তুলেছে— ভারত এভাবে জলচুক্তি ভাঙা একপ্রকার ‘যুদ্ধ ঘোষণা’। তবে ইসলামাবাদের অভিযোগ ও উদ্বেগে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank), যার মধ্যস্থতায় এই ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল, তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ভারতের সিদ্ধান্তে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। এই বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা (Ajay Banga)।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাঙ্গা। পাশাপাশি বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের (Nirmala Sitharaman) সঙ্গেও। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা সৌজন্যমূলক হলেও সিন্ধু চুক্তি (Indus Treaty) সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষভাবে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অজয় বাঙ্গা স্পষ্ট করে বলেন, “বিশ্বব্যাঙ্ক এই চুক্তিতে কোনও রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী নয়। যদি ভারত চুক্তি বাতিল করেও দেয়, সেটি দুই দেশের বিষয়। আমরা কেবল নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পারি, যার খরচও নির্দিষ্ট তহবিল থেকে বহন করা হয়।” তাঁর মতে, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে মধ্যস্থতার ভূমিকা বিশ্বব্যাঙ্কের সীমিত ছিল, এবং তা এখনও সীমিতই রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বোর্ডের কড়া সিদ্ধান্ত, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত আইপিএল
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ুব খানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বিশ্বব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে। তাতে নির্ধারিত হয়, শতদ্রু (Sutlej), বিপাশা (Beas) ও রবি (Ravi) নদীর জল সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অধিকার থাকবে ভারতের, অন্যদিকে সিন্ধু (Indus), ঝিলম (Jhelum) ও চেনাব (Chenab)-এর ৮০ শতাংশ জল ব্যবহার করবে পাকিস্তান।
তবে চুক্তি অনুযায়ী, ওই তিনটি পশ্চিম নদীতে ভারত বাঁধ নির্মাণ করতে পারলেও তা হবে কড়াভাবে নিরীক্ষিত শর্তসাপেক্ষে। বহু বছর ধরেই নয়াদিল্লি বলে আসছে, ইসলামাবাদের অতিরিক্ত আপত্তির কারণে জলপ্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই গত বছর ভারত পাক সরকারকে চুক্তি সংশোধনের জন্য কড়া নোটিস পাঠায়।
তবে ২০২৫-এর এপ্রিলে পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি রীতিমতো বদলে যায়। কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয়, সিন্ধু জলচুক্তি আর আগের মতো বহাল রাখা হবে না। পাকিস্তান সরকার একে ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন’ বললেও, বিশ্বব্যাঙ্কের অবস্থান স্পষ্ট— চুক্তির মধ্যে হস্তক্ষেপ তাদের এক্তিয়ারে পড়ে না।
