হামলা
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বোর্ডের কড়া সিদ্ধান্ত, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত আইপিএল
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan) সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হলো চলতি আইপিএল (IPL)। শুক্রবার বোর্ডের এক শীর্ষকর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI)-কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার ধর্মশালায় (Dharamshala) পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের (Punjab Kings vs Delhi Capitals) ম্যাচ চলাকালীন ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বাতিস্তম্ভের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় ও খেলা বন্ধ রাখা হয়। তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে আইপিএলের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে। অবশেষে শুক্রবার সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।
২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে (Pahalgam, Jammu & Kashmir) ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু নিরীহ পর্যটকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমে বেড়েই চলেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাক বাহিনীর যাবতীয় হামলার প্রচেষ্টা প্রতিহত করছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সমীচীন নয় বলে মত বিসিসিআইয়ের।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে আর নিরাপদ নয়, ক্রিকেটারদের ফিরিয়ে আনছে বাংলাদেশ
বোর্ডের এক কর্তা পিটিআইকে বলেন, “দেশ যখন সীমান্তে সংঘাতে ব্যস্ত, তখন ক্রিকেটের মতো বিনোদনমূলক টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়া উপযুক্ত নয়। এটাই সঠিক সময় দেশের সঙ্গে একাত্ম হতে হবে।” আইপিএলে শুধুমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটাররাই নন, বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফও যুক্ত থাকেন। যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বোর্ডের অন্যতম দায়বদ্ধতা। ফলে সবদিক বিবেচনা করেই আপাতত আইপিএল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এর আগে জানা গিয়েছিল, বিসিসিআই একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য। সেই বৈঠকের পরই আইপিএল স্থগিতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এ বছরের আইপিএল ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল ২৫ মে। কিন্তু এখন আর সেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচগুলি সম্পন্ন হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত ৫৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিগ তালিকার শীর্ষে রয়েছে গুজরাট টাইটান্স (Gujarat Titans) দলের শুভমন গিল (Shubman Gill)। দ্বিতীয় স্থানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB), তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে পাঞ্জাব কিংস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians)।
এই পরিস্থিতিতে আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা উদ্বিগ্ন হলেও, জাতীয় নিরাপত্তা প্রাধান্য পাচ্ছে— এ বার সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠল।
